বিতর্ক এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতীয়দের প্রতিবাদের মুখে পড়ে ‘কোয়ান্টিকো’ নিয়ে অবশেষে ক্ষমা চাইল মার্কিন টেলিভিশন স্টুডিও এবিসি। বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল গত ১ জুন, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া অভিনীত জনপ্রিয় মার্কিন ড্রামা সিরিজ কোয়ান্টিকোর একটি এপিসোডকে ঘিরে। ‘দ্য ব্লাড অফ রোমিও’ নামক ওই এপিসোডটিতে দেখানো হয়, ভারত-পাক শান্তি প্রক্রিয়া ভেস্তে দিতে হিন্দু সন্ত্রাসবাদীরা ম্যানহাটন শহরে পারমাণবিক হামলা চালানোর চক্রান্ত করেছে এবং গোটা দায় পাকিস্তানের উপর চাপিয়ে পাকিস্তানের বদনাম করার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।
এই এপিসোডটি সম্প্রচারিত হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন অনেক ভারতীয়। সরাসরি প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে আক্রমণ করে বলা হয়, নিজে একজন ভারতীয় হয়ে কেন এই এপিসোডে শ্যুটিং করতে রাজি হলেন প্রিয়াঙ্কা? কেন তিনি প্রতিবাদ করলেন না? কেউ কেউ লেখেন, টাকা আর খ্যাতির লোভে এই কাজ করেছেন প্রিয়াঙ্কা। আবার, হিন্দু ধর্মকে একটি শান্তিপ্রিয় ধর্ম বলে উল্লেখ করে অনেকে প্রিয়াঙ্কাকে কটাক্ষ করে লিখেছেন, বিদেশের মাটিতে ভারতের প্রতিনিধি হয়েও কেন তিনি ভারত বিরোধী, হিন্দু ধর্মের বিরোধী এই এপিসোডের প্রতিবাদ করলেন না। দাবি ওঠে প্রিয়াঙ্কা যেসব ব্র্যাণ্ডের প্রচার করেন সেগুলির বয়কট করার। ক্ষোভ এতটাই ছড়ায় যে কেউ কেউ প্রিয়াঙ্কার পাসপোর্ট বাতিল করার এবং তাঁকে ভারতে ঢুকতে না দেওয়ার দাবিও জানান।

পরিস্থিতি ক্রমে জটিল হচ্ছে দেখে শুক্রবার এক বিবৃতী মারফত গোটা ঘটনার জন্য ক্ষমা চায় এবিসি কর্তৃপক্ষ। তাদের তরফে বলা হয়, এই এপিসোডে হিন্দু সন্ত্রাসবাদ দেখানোয় অনেকেই মনে আঘাত পেয়েছেন, সেকারণে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ দুঃখিত। তবে প্রিয়াঙ্কার দিকে যে অভিযোগের আঙ্গুল উঠছে তাও কাম্য নয় বলে এবিসি জানিয়েছে। প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার পাশে দাঁড়িয়ে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ বলেছে, প্রিয়াঙ্কা এই ধারাবাহিকের নির্মাতা বা পরিচালক নন। কোয়ান্টিকোর কাহিনীও তাঁর লেখা নয়। তাই তাঁকে দোষারোপ করা ঠিক নয়।

You may also like