শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসকে বাদ দিয়েই উত্তর প্রদেশে ২০১৯ সালের জোট ঘোষণা করে দিলেন অখিলেশ যাদব এবং মায়াবতী। ৩৮ টি করে আসনে লড়বে সমাজবাদী পার্টি এবং বহুজন সমাজ পার্টি। ২ টি আসন ছেড়ে রাখা হয়েছে রাহুল এবং সোনিয়ার জন্য। অন্য ২ টি আসনে অখিলেশ-মায়াবতী ছেড়েছেন অন্যান্যদের জন্য। অখিলেশ এবং মায়াবতীর এই জোট জল্পনা চলছিলই। এদিন তা ঘোষণা হয়ে যাওয়ায় উত্তর প্রদেশে ধাক্কা খেল কংগ্রেস।
উত্তর প্রদেশের জনগণ বিজেপি শাসনে বীতশ্রদ্ধ। রাজ্যের উপনির্বাচনের ফলাফল থেকেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে, মানুষ বিজেপি শাসন চাইছে না। এই জোট আগামী লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের মানুষের জন্য জোট, বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে ছেঁটে ফেলার জোট, শনিবার যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে বললেন অখিলেশ যাদব এবং মায়াবতী।
শুক্রবারই অমিত শাহ কটাক্ষ করে বলেছিলেন বিজেপির ভয়ে ‘বুয়া-ভাতিজা’ জোট গড়ছেন। শেষ পর্যন্ত আসন্ন লোকসভার নির্বাচনে জোট করেই ফেললেন দুই চির-প্রতিদ্বন্দ্বী সপা-বিএসপি। সেই জোট প্রসঙ্গে লখনউয়ে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করেন সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ সিংহ যাদব ও বহুজন সমাজ পার্টি নেত্রী মায়াবতী। বেলা ১২ টা ১০ মিনিটে সাংবাদিক সম্মেলন শুরু করেন দু’জনে। সাংবাদিকদের উদ্দেশে দু’জনেরই বার্তা, সপা ও বসপা’র জোট ঘুম উড়িয়ে দেবে অমিত শাহ ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর।
মায়াবতী বলেন, ১৯৯০ সাল থেকে অযোধ্যা ইস্যু নিয়ে বিজেপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতি মাথাব্যথা বাড়িয়েছে সারা দেশের। সেই একই পরিবেশ আবারও ফিরিয়ে এনেছে মোদী ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার। তাঁদের সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ফল ভোগ করতে হচ্ছে উত্তর প্রদেশের ১ কোটি মানুষকে। মায়াবতী বলেন, ১৯৯৩ সালে উত্তর প্রদেশে জোট বেঁধেছিল সপা এবং বসপা। তখন উত্তরপ্রদেশে সরকার গড়েছিল এই জোট। সেই জোটের নেতৃত্বে ছিলেন কাঁসিরাম ও মুলায়ম সিংহ যাদব। আবার এই জোট গড়ে তোলা হচ্ছে আমজনতার কথা মাথায় রেখেই।
পাশাপাশি, কংগ্রেস সঙ্গ ত্যাগ করা নিয়ে মায়াবতীর উক্তি, কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গড়ে তাঁদের কোনও লাভ নেই। কংগ্রেস বা বিজেপি মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। যেই ক্ষমতায় আসুক মানুষকে নিরাশ হতে হয়। যদিও পূর্ব ঘোষণার মতো রায়বেরিলি এবং আমেঠির কংগ্রেস দুর্গে তাঁরা কোনও প্রার্থী দিচ্ছে না বলেই ঘোষণা করেন অখিলেশ-মায়াবতী।
অন্যদিকে, সপা প্রধান অখিলেশ যাদব সাংবাদিক বৈঠকে জানান, দেশের মানুষের স্বার্থে বৈরিতা ভুলে বসপা-সপা হাত মিলিয়েছে। তাঁর দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে অখিলেশের বার্তা, মায়াবতীর অপমান মানে, আমার অপমান।
গত বছর উপনির্বাচনে বিজেপিকে হারানোর পরেই তাঁরা পরস্পরের হাত ধরার চিন্তা-ভাবনা করছিলেন বলে জানান অখিলেশ। তবে বিএসপি নেত্রীর কথায়, কেবল নির্বাচন জেতা এই জোটের লক্ষ্য নয়, দলিত, মুসলমান ও অন্যান্য সংখ্যালঘুর স্বার্থের কথা ভেবেই এই জোট ভাবনা।

You may also like