সিবিআই প্রধানের পর থেকে অলোক ভার্মাকে সরিয়ে দিল প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের কমিটি। বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। মঙ্গলবারই অলোক ভার্মাকে সিবিআই প্রধানের পদে ফের বসাতে নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়েছিল, যেভাবে অলোক ভার্মাকে তাঁর পদ থেকে সরানো হয়েছিল তা আইন মোতাবেক হয়নি। পাশাপাশি, আদালত জানিয়েছিল, সিবিআই প্রধানের ভবিষ্যৎ কী হবে তা প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে গঠিত তিন সদস্যের কমিটি ঠিক করবে। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ে যথেষ্টই ধাক্কা খায় কেন্দ্র।
আদালতের এই নির্দেশের পরই বুধবার ফের সিবিআই প্রধানের দায়িত্ব নেন অলোক ভার্মা এবং দায়িত্ব নিয়েই তাঁর ঘনিষ্ঠ যে অফিসারদের বদলি করা হয়েছিল তাঁদের ট্রান্সফার অর্ডারে সই করেন। অন্যদিকে, বুধবারই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ তিন সদস্যের কমিটি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে তাঁর জায়গায় বিচারপতি এ কে সিক্রিকে প্রতিনিধি নিয়োগ করেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর বাড়িতে এই কমিটির বৈঠক বসে। সূত্রের খবর, মল্লিকার্জুন খাড়গে অলোক ভার্মাকে অপসারণের বিরোধিতা করেন। কিন্তু তা মানতে রাজি হননি প্রধানমন্ত্রী। এরপরই নোট অফ ডিসেন্ট দেন বিরোধী নেতা। সূত্রের খবর, আগামী ৩১ শে জানুয়ারি অলোক ভার্মার অবসর নেওয়ার কথা। কিন্তু সিবিআই প্রধান যেভাবে সরাসরি কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছেন, তাঁকে আর এক মুহূর্তও পদে রাখতে রাজি হননি মোদী। কংগ্রেসের অভিযোগ, অলোক ভার্মা রাফাল তদন্তের ফাইল নাড়াচাড়া শুরু করেছিলেন। তাই মাঝরাতে তাঁকে সরানো হয়েছিল, এবারও এই তদন্তের ভয়েই প্রধানমন্ত্রী এক মুহূর্তও সময় দিতে রাজি হননি সিবিআই প্রধানকে।
অলোক ভার্মা যে কেন্দ্রের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছেন তা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সিবিআই প্রধানের চেয়ারে দু’দিন বসেই ফের প্রমাণ করেছেন। বুধবার এবং বৃহস্পতিবার দু’দফায় তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলার সঙ্গে যুক্ত অফিসারকে বদলি করেন।

You may also like