রাজস্থানে ২০১৩ সালের তুলনায় এবার দ্বিগুণ ভোট পেয়েছে সিপিএম। আসন পেয়েছে ২ টি, আর ২ টি আসনে লড়ে দ্বিতীয়। কিন্তু আসন সংখ্যা দিয়ে নয়, ধারাবাহিক কৃষক আন্দোলনের নিরিখেই নিজেদের সাফল্য মাপছে রাজস্থান সিপিএম। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে লাগাতার যে কৃষক আন্দোলন দেখে চমকে উঠেছে গোটা দেশ, তার সূত্রপাতও রাজস্থানেই। কখনও এই কৃষক মিছিল আছড়ে পড়েছে দিল্লিতে তো, কখনও বাণিজ্য নগরী মুম্বইয়ে। রাজস্থান, মধ্য প্রদেশ, ছত্তিশগড়ে বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যূত করা এবং সামনের লোকসভা ভোট নিয়ে সারা ভারত কৃষক সভার অন্যতম নেতা, সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং রাজস্থান সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক আমরা রাম কথা বললেন thebengalstory.com এর সঙ্গে।

প্রশ্নঃ রাজস্থানে এবার সিপিএমের ভোট অনেক বেড়েছে, বিজেপির বিরুদ্ধে আপনাদের লড়াই তীব্র হয়েছে। কংগ্রেসের সঙ্গে কিছু আসনে সমঝোতা হলে কি এই আপনার রাজ্যে সিপিএমের আরও ভালো রেজাল্ট হোত?

আমরা রামঃ কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতার তো কোনও প্রশ্নই ওঠে না। কংগ্রেস রাজস্থানে বিজেপির বি টিম। অনেকেই বলছেন, তিন রাজ্যে কংগ্রেসের জয় হয়েছে। কিন্তু ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই রাজস্থানে কৃষক আন্দোলন শুরু হয়েছিল। তারপর সেই আন্দোলনকে আমরা সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে পেরেছি। সেই কৃষক আন্দোলনের জন্যই আজ এই তিন রাজ্যের গ্রামাঞ্চলে বিজেপি হেরেছে। আমাদের কৃষক আন্দোলনের আগে রাহুল গান্ধী কোনও রাজ্যে হারাতে পেরেছেন বিজেপিকে? কোথাও জিতেছে কংগ্রেস? এই তিন রাজ্যে বিজেপির হার আসলে সারা ভারত কৃষক সভার ধারাবাহিক আন্দোলনের জয়।

প্রশ্নঃ কংগ্রেসকে কেন বিজেপির বি টিম বলছেন? এই তিন রাজ্যে এটা কংগ্রেসের জয় নয়?

আমরা রামঃ রাজস্থানে তো তাই। এখানে যে আগে বিজেপি করতো তাকে কংগ্রেস টিকিট দিচ্ছে। বিজেপি-কংগ্রেসের কোনও তফাত নেই। ত্রিপুরায় ভোটে দেখা গেছে, পুরো কংগ্রেস সেখানে বিজেপি হয়ে গেছে। কেরলেও তাই, সাবরীমালা ইস্যুতে কংগ্রেস বিজেপি হয়ে যাচ্ছে। আগামী লোকসভায় দেখবেন কেরলে কংগ্রেসের বেশিরভাগ ভোট বিজেপিতে চলে যাবে। কংগ্রেসের দেশ শাসনের জন্যই ২০১৪ সালে বিজেপি ২৮২ আসন পেয়েছে। আমরা কৃষক আন্দোলন শুরু না করলে কেউ কৃষকের ঋণ মকুবের কথা বলতো? নরেন্দ্র মোদী, রাহুল গান্ধী কোনও দিন কৃষকের ঋণ মকুবের কথা বলেছে? আজ বলতে বাধ্য হচ্ছে। কিন্তু জেনে রাখুন, রাহুল গান্ধী রাজস্থানে ঘোষণা করেছেন, সরকার গড়লে ১০ দিনে কৃষি ঋণ মকুব করবেন। আমরা ঠিক ১০ দিনই দেখব। ১০ দিনে কৃষি ঋণ মকুব না হলে রাজস্থানের কৃষক কংগ্রেসের বিরুদ্ধেও বদলা নেবে।

প্রশ্নঃ আপনি বলছেন, কংগ্রেস দ্রুত কৃষি ঋণ মকুব না করলে রাজস্থানে কৃষক সভা কংগ্রেসের বিরুদ্ধেও আন্দলনে নামবে? এমন কি সম্ভাবনা আছে, রাজস্থানে আপনাদের দু’জন বিধায়ক বিধানসভায় কংগ্রেসকে সমর্থন করবেন?

আমরা রামঃ কংগ্রেসকে সমর্থনের কোনও প্রশ্নই ওঠে না। বিজেপি-কংগ্রেসকে হারিয়ে আমরা জিতেছি। বিধানসভায় আমরা বিরোধী দলের ভূমিকাই পালন করব। আর কংগ্রেস এখন জিতে কৃষি ঋণ মকুবের প্রতিশ্রুতি না রাখলে ওদের বিরুদ্ধেও জোরদার আন্দোলন হবে। কৃষক বদলা নেবে।

প্রশ্নঃ আপনি কংগ্রেসকে বিজেপির বি টিম বলছেন, আর বাংলায় সিপিএম তো কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতা করছে!

আমরা রামঃ পার্টির কোন ইউনিট কোথায় কী করছে তা নিয়ে কিছু বলব না। আমি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। দলের কথা বললাম, কৃষক সভার কথা বললাম। কংগ্রেস-বিজেপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেই আমাদের দাবি আদায় করতে হবে। আর এই আন্দোলন আমরা না করলে এই তিন রাজ্যে বিজেপি যে হারতো না, তা কংগ্রেসও বুঝে গেছে। কংগ্রেস এখন জিতে বিজেপির মতো করলে ওদের বিরুদ্ধেও দেশের কৃষক বদলা নেবে।


আরও পড়ুনঃ ২০১৩ সালের তুলনায় এবার রাজস্থানে সিপিএম পেল প্রায় দ্বিগুণ ভোট, কৃষক আন্দোলনের জয় বলে মনে করছেন নেতৃত্ব