কল্যানীতে কি গুণ্ডাদের দাপাদাপি কমেছে? বুধবার নদিয়ার প্রশাসনিক বৈঠকে রাজ্য পুলিশের ডিজি বীরেন্দ্র এবং মুখ্য নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুরজিৎ কর পুরকায়স্থের সামনেই কল্যানী থানার ওসিকে প্রশ্ন করলেন মুখ্যমন্ত্রী। জবাবে ওসি জানালেন, কমেছে। এরপরই মুখ্যমন্ত্রীর দাওয়াই, দুষ্টুমি করলে রেওয়াত করবেন না সমাজবিরোধীদের।
এরপরই নাম না করে বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কল্যানী থানার ওসিকে বলেন, ফেট্টি বেঁধে, নামাবলী গায়ে দিয়ে যা ইচ্ছে তা করে যাবে, তা হয় না। এদের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। কল্যানীর পাশাপাশি, তেহট্ট, হাঁসখালি, করিমপুর, তাহেরপুর ইত্যাদি নদিয়ার সীমান্ত এলাকায় খুনোখুনি বেশি হয় বলে জেলার পুলিশ সুপারকে সতর্ক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, এই সব এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি বাড়াতে হবে।
সম্প্রতি দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানার প্রশাসনিক বৈঠকেও পুলিশকে একই বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলায় কুটির শিল্পের মতো অস্ত্র তৈরি হচ্ছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে কড়া নজরদারির পরামর্শ দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর বীরভূমের প্রশাসনিক বৈঠকেও নানুর থানার ওসিকে বলেছিলেন, অস্ত্র, বোমার কারখানা ধরতে। গণ্ডগোল ঠেকাতে।
লোকসভা ভোটের কয়েক মাস আগে থেকেই বিভিন্ন জেলার উত্তেজনাপ্রবণ এলাকায় পুলিশকে কড়া বার্তা দিতে শুরু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ভোটের আগে কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে আগেভাগে ব্যবস্থা নিতে বলছেন তিনি। এদিনও একথা বলেন নদিয়ায়।
পাশাপাশি, জেলা আধিকারিকদের কাছে নদিয়ার সরকারি কাজের উন্নয়নেরও খতিয়ান চান মমতা। জেলায় মসলিন শিল্পের জন্য গুজরাত থেকে চরকা আনার জন্য প্রশাসনকে ভর্ৎসনা করেন তিনি। তিনি বলেন, মসলিন শিল্প এরাজ্যের মানুষকে স্বনির্ভর করার জন্য। গুজরাত থেকে কেন মেশিন আনতে হবে? এরাজ্যেই প্রস্তুত করতে হবে পরিকাঠামো থেকে উৎপাদন।
জেলার তৃণমূল নেতাদের মমতার পরামর্শ, প্রতিদিন মানুষের কথা শুনতে হবে, মানুষের সঙ্গে মিশতে হবে। কাজ না করলে কেউ পার পাবেন না।

You may also like