মঙ্গলবার পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা পুলিশ লাইনে প্রশাসনিক সভা থেকে বালি মাফিয়াদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তিনি বলেন, বেআইনিভাবে সুবর্ণরেখা, কাঁসাই নদী থেকে বালি তুলে নিচ্ছে বালি মাফিয়ারা। যার ফলে আর্থিক ও পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। এটা চলতে পারে না। কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে। এদিন এই ইস্যুতে সরাসরি জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে এক হাত নেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, আমরা এসে নির্দেশ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, ফের ক’দিন পর নজরদারি উঠে যায়। এটা কেন হবে? আর কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। এটাই শেষ নির্দেশ। মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, পুলিশের এত অফিসার ও ভূমি দফতরের আধিকারিকরা কী করছেন? তাঁরা থাকলেও বেআইনি বালি তোলা হয় কীভাবে?
মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্নে আমতা আমতা করে জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে বলা হয়, বেআইনি বালি তোলা রুখতে অনেক এলাকায় সিসি টিভি বসানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন সরকারি আধিকারিক, পুলিশদের একাংশের সঙ্গে বালি মাফিয়াদের যোগসাজোশে এই বেআইনি কাজ চলছে। তাই সিসি টিভি’তে কাজ হবে না, তা বন্ধ করে দেওয়া যায় ইচ্ছে করলেই। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, পুলিশকে তাদের দুর্নীতি দমন শাখাকে কাজে লাগাতে হবে এই কাজ রুখতে, প্রয়োজনে নোডাল অফিসার নিয়োগ করতে হবে। পঞ্চায়েত স্তরের আধিকারিক, বিডিওরা সরাসরি এবার থেকে এই বেআইনি কাজ রুখতে সক্রিয় হোন, নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, টোলে ফাঁকি দিতে জাতীয় সড়ক ব্যবহার না করে এই বালি মাফিয়ারা ভারি ভারি ট্রাক নিয়ে গ্রামীণ রাস্তা ব্যবহার করছে। ফলে নষ্ট হচ্ছে গ্রামের রাস্তা। তাঁর নির্দেশ, এবার থেকে গ্রামের রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে দিতে হবে, স্পেশাল পারমিট ছাড়া চার চাকার লরি বাদে আর কোনও লরিকে ওই রাস্তা দিয়ে যেতে যাওয়া যাবে না। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শালবনিতে এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী মানুষ বাইরে থেকে এসে মিথ্যা প্রচার করছে, হাসপাতালে সরকার বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা দিচ্ছে না। এই গুজবে কান না দিতে শালবনিবাসীকে অনুরোধ করেছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে ও সরকারের চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে প্রচারের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন জেলার ১০০ দিনের কাজ ও গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বন বিভাগের কাজে যাতে গ্রামের লোকেদের বেশি করে যুক্ত করা হয় এদিন তারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

You may also like