‘নানুরে বোমা তৈরির কারখানা বন্ধ হয়েছে?’ বোলপুরের প্রশাসনিক বৈঠকে সরাসরি বীরভূমের নানুর থানার ওসিকে প্রশ্ন করলেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি দুবরাজপুর থানার ওসি’র কাছেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানতে চান, সেখানে ঠিকমতো পুলিশের নজরদারি চলছে কিনা। বোমা এবং অস্ত্র তৈরির কারখানা বন্ধ করার জন্য বীরভূম পুলিশকে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে ঝাড়খন্ড সীমানা এলাকায় নজর রাখার জন্যও জেলার পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন তিনি।
সামনেই লোকসভা নির্বাচন, তাই ভোটকালীন হিংসার ঘটনা ঠেকাতে আগেভাগেই মুখ্যমন্ত্রী বীরভূম জেলা পুলিশ প্রশাসনকে সজাগ থাকার নির্দেশ দিলেন। সম্প্রতি পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময়ও উত্তপ্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল বীরভূমের নানুর, দুবরাজপুর এলাকায়। বিশেষ করে বীরভূমের ঝাড়খন্ড সীমানা এলাকায় বোমা এবং অস্ত্রের কারবার দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয়। তৃণমূল-বিজেপির মধ্যে গত কয়েক বছরে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। চলে প্রচুর বোমাবাজি ও গুলির লড়াই। এদিন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশকে কঠোর হতে বলার পাশাপাশি পথ দুর্ঘটনা নিয়েও উষ্মা প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কয়েকদিন আগেই দক্ষিণ ২৪ পরগনায় প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, সেই জেলার কিছু জায়গায় কুটির শিল্পের মতো অস্ত্র কারখানা গড়ে উঠেছে। অবিলম্বে এসব বন্ধ করার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে পদক্ষেপ নিতে বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বীরভূমে গিয়েও প্রশাসনকে সেই বার্তাই দিলেন তিনি।
এর পাশাপাশি বোলপুরের গীতাঞ্জলী স্টেডিয়ামে প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তফশিলী জাতি, উপজাতি সার্টিফিকেটের জন্য সাধারণ মানুষের যে কোনও হয়রানি না হয়। তিনি বলেন, প্রশাসনকে মানুষের কাজ করতে আরও উদ্যোগী হতে হবে। কোনও আমলা বা সরকারি কর্মী কাজে অবহেলা করলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মমতা বলেন, আজকাল কোনও কিছু ঢেকে রাখা যায় না, নজরে আসবেই। তাই কাজে অবহেলা নয়, আমলা ও সরকারি কর্মচারীদের বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর।