সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশকে কোনও ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে নয়, আদর্শগত কারণে খুন করা হয়েছিল। গৌরী লঙ্কেশের খুনে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ‘সনাতন সংস্থা’ জড়িত বলে দাবি করে কর্ণাটক পুলিশের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট) এবং আদালতে এই মর্মে চার্জশিটও পেশ করে। ওই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকা ১৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়, যার মধ্যে ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদিকে, মঙ্গলবার হিন্দুত্ববাদী সংগঠন সনাতন সংস্থা সিটের এই রিপোর্ট অস্বীকার করে দাবি করেছে, সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশ খুনে কোনওভাবেই তারা জড়িত নয়। খুনের অপরাধে অভিযুক্ত ১৮ জন তাদের সংগঠনের সদস্য নয় বলেও দাবি করেছে সনাতন সংস্থা।
তদন্তকারী দল তাদের রিপোর্টে জানিয়েছিল, অতি ডানপন্থী ও হিন্দুত্ববাদীদের বিরুদ্ধে গৌরী লঙ্কেশের লেখালেখি ও প্রতিবাদ ভালো চোখে নেয়নি কয়েকটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। এদের মধ্যে সনাতন সংস্থার বহুদিনের ‘টার্গেট’ ছিলেন গৌরী। বছর চারেক ধরে ষড়যন্ত্র চলে তাঁকে খুনের জন্য। অবশেষে, ২০১৭ সালের ৫ ই সেপ্টেম্বর গৌরীকে তাঁর বাড়ির সামনে গুলি করে খুন করা হয়।
কর্ণাটক পুলিশের পেশ করা চার্জশিটের পরিপ্রেক্ষিতে সনাতন সংস্থার মুখপাত্র চেতন রাঁঝা মঙ্গলবার জানিয়েছেন, তাঁদের সংগঠন কোনওভাবেই যুক্ত নয় গৌরী লঙ্কেশের খুনে। তাঁর কথায়, মালগাঁও ব্লাস্টেও তাঁদের সংগঠনকে ‘জড়ানো’ হয়েছিল, তবে আদালতে তাঁরা নির্দোষ বলে প্রমাণিত হয়েছেন। এবারেও তাই হবে।
সিট চার্জশিটে জানিয়েছিল, আদর্শগত কারণে খুন করা হয়েছে গৌরীকে। খুনে জড়িতরা সনাতন সংস্থা থেকে প্রকাশিত বই ‘ক্ষাত্র ধর্মীয় সাধনা’য় উল্লিখিত আদর্শ ও নির্দেশিকা অনুসরণ করত। এই প্রসঙ্গে সাংবাদিক সম্মেলনে চেতন রাঁঝার বলেন, যদি আমাদের প্রকাশিত বই পড়ে কেউ এই ধরনের কাজ করে এবং তার জন্য সংগঠনকে কাঠগোড়ায় তোলা হয়, তাহলে, ‘জিহাদ’ বা নকশাল কার্যকলাপের জন্য কাকে দায়ী করা হবে? চেতনের আরও দাবি, ‘ক্ষাত্র ধর্মীয় সাধনা’ বইটি ২৩ বছর আগে সনাতন সংস্থার তরফে প্রকাশিত হয়। কিন্তু বইটি ‘আনপপুলার’ হওয়ার কারণে ১০ বছর আগে সেটির প্রকাশনা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তদন্তকারী দল স্রেফ অভিযুক্তদের মুখের কথার ওপর ভিত্তি করে একটা সংগঠনকে খুনের মামলায় জড়াতে পারে না বলে দাবি করেন তিনি।
হিন্দুত্ববাদী সংগঠনদের হয়ে আদালতে লড়ছেন আইনজীবী এন পি আমরুতেশ। তিনি দাবি করেছেন, সিট এখনও পর্যন্ত চার্জশিটের কপি পেশ করেনি। তাঁর কথায়, নির্দোষ হিন্দুদের যুক্তিহীনভাবে সাজানো মামলায় জড়ানো হচ্ছে।

You may also like