ইংরেজি নববর্ষে রাজ্যের কৃষকদের ‘উপহার’ মুখ্যমন্ত্রীর। কৃষক পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার চালু করল ‘কৃষকবন্ধু’ স্কিম। ১৮ বছর থেকে ৬০ বছর বয়সী কোনও কৃষক এবং খেত মজুরের স্বাভাবিক বা অস্বাভিক মৃত্যু হলে এই সুবিধে পাবে তাঁর পরিবার। মৃতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হবে ২ লক্ষ টাকা।
কৃষকবন্ধু স্কিমে, প্রতি বছর ২ বার চাষের জন্য, প্রতি একর জমিতে কৃষকেরা পাবেন মোট ৫ হাজার করে টাকা। আড়াই হাজার করে ২ খেপে ওই টাকা তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এতে রাজ্যের প্রায় ১ কোটি কৃষক পরিবার উপকৃত হবেন। নয়া এই স্কিমে সরকারের খরচ হবে কম-বেশি ৭ হাজার কোটি টাকা। ২০১৯ সালের ১ লা জানুয়ারি থেকে চালু হবে এই স্কিম। তবে কৃষকেরা আবেদন করতে পারবেন ১ লা ফেব্রুয়ারি থেকে।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, সারা দেশে যখন ফসলের দাম পেতে এবং ঋণের দায়ে নাভিঃশ্বাস উঠেছে কৃষকের, তখন রাজ্যের এই উদ্যোগ কৃষকদের স্বস্তি দেবে। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের কৃষকদের কর মুকুব করেছেন। ঘোষণা করেছেন জমির মিউটেশন ফি লাগবে না।
মোদী সরকার যখন ২০২২ সালে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়েছে, তখন এরাজ্যে কৃষকদের আয় তার আগেই অনেক বাড়ানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, গোটা দেশে ১২ হাজার কৃষক আত্মহত্যা করলেও এই রাজ্যে এধরনের কোনও ঘটনা ঘটেনি। রাজ্য সরকার কৃষকদের পাশে আছে। কৃষকদের স্বার্থে অন্যান্য খরচ কমিয়ে কৃষকবন্ধু স্কিমের টাকার জোগান দেওয়া হবে।
৩১ শে ডিসেম্বর মন্ত্রিসভার সদস্য অমিত মিত্র, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, মুখ্যসচিব মলয় দেসহ শীর্ষ স্থানীয় অফিসারদের সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর, কৃষকদের স্বার্থে নতুন স্কিমের কথা ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।