শনিবার কলকাতায় এসে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। পাশাপাশি বাংলার উন্নয়নের প্রশ্নে সমালোচনা করেছেন সিপিএমেরও। অমিত শাহের সভা নিয়ে মুখ খুললেন সিপিএম পলিটব্যুরো সদস্য এবং সাংসদ মহম্মদ সেলিম।

প্রশ্নঃ অল্প সময়ের ব্যবধানে নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ বাংলায় পরপর তিনটে জনসভা করলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। এর পরেও আপনারা বলবেন তৃণমূল বিজেপির মধ্যে গট আপ আছে?

মহম্মদ সেলিমঃ এটাকেই আমরা বলছি গুলিয়ে দেওয়ার রাজনীতি। যত ভাষণ হচ্ছে, তত অ্যাকশন হচ্ছে না। যুদ্ধ-যুদ্ধ আবহ তৈরি করা হচ্ছে। ২০১৪ সালে লোকসভা ভোটের আগে থেকে নরেন্দ্র মোদী বলছেন, চিট ফান্ড নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন। চার বছর তো হয়ে গেল, কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? কিচ্ছু না। লোক দেখানো একটা তদন্ত করছে সিবিআই। আর ভোটের সময় এলেই বিজেপি নেতারা হুঙ্কার ছাড়ছেন। নারদা নিয়ে সংসদে এথিক্স কমিটির কী অগ্রগতি হয়েছে? একটা মিটিংও হয়নি। সবই হচ্ছে আই-ওয়াশ। অমিত শাহকে তো কলকাতায় এসে বলতে হোত, চার বছরে কেন্দ্রীয় সরকার কী করেছে? আসলে পশ্চিমবঙ্গে সরকারি স্পেস নয়, বিরোধী স্পেস নেওয়ার জন্য গরম-গরম কথা বলছেন ওঁরা।

প্রশ্নঃ কী বলছেন? প্রধানমন্ত্রী থেকে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি এরাজ্যে ‘সিন্ডিকেট সরকার’ চলছে বলে সরাসরি অভিযোগ করছেন। তার মধ্যে শনিবার অমিত শাহ ‘ভাইপো’ শব্দ ব্যবহার করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। যা নিয়ে তৃণমূল পালটা মামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এত কিছুর পরেও বলছেন আই-ওয়াশ?

মহম্মদ সেলিমঃ দুর্নীতি নিয়ে বিজেপি কী বলবে? তবে তো ওদের বলতে হবে ওরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিয়েছে। ‘ভাইপো’র বিরুদ্ধে কী করে অ্যাকশন নেবেন অমিত শাহ? ‘ভাইপো’র বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিতে গেলে তো নিজের ছেলের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে হবে! আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিজেপি ততটাই সুর চড়াচ্ছে, যতটা করলে বাংলায় বিভাজনের রাজনীতি করা যায়। আর তা থেকে ফায়দা তোলা যায়।

প্রশ্নঃ অমিত শাহ বলছেন, তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস এবং কমিউনিস্টরা উন্নয়ন করতে পারে না। তাই বিজেপিকে একবার সুযোগ দেওয়ার জন্য বাংলার মানুষের কাছে আহ্বান জানাচ্ছেন তিনি।

মহম্মদ সেলিমঃ মোদী সরকার আগে জবাব দিক, চার বছরে দেশের কী উন্নয়ন তারা করেছে। শিল্প বিনিয়োগ থেকে শুরু করে চাকরির ক্ষেত্র তৈরি করা, প্রতিটি ক্ষেত্রে এই কেন্দ্রীয় সরকারের পারফরমেন্স অতীতের সমস্ত সরকারের থেকে খারাপ। রাজ্যের দিকে তাকালেও দেখা যাবে, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের আমলে ১০ বছরে পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের বিকাশ হয়েছে তামিলনাড়ু, গুজরাত, মহারাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে ওই রাজ্যগুলির থেকেও বেশি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিশু মৃত্যুর হার থেকে শুরু করে মানব উন্নয়নের সমস্ত সূচকে পশ্চিমবঙ্গ এবং কেরল বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির থেকে বহু এগিয়ে। কেন্দ্রীয় সরকারের রিপোর্টেই তা আছে। সম্পতি বাম পরিচালিত কেরল দেশের সেরা রাজ্যের শিরোপা পেয়েছে। ত্রিপুরায় সিপিএমকে হারিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। সেখানেও মানুষ দেখছেন, সিপিএম কী উন্নয়ন করেছে আর এখন বিজেপি কী করছে। অন্য দলগুলি কী করছে, না বলে বিজেপিকে এখন জবাব দিতে হবে, চার বছরে ওরা কী করেছে। কটা প্রতিশ্রুতি পালিত হয়েছে।