দিন কয়েক আগেই এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে সন্তানদের জন্য চিন্তা হয় তাঁর। বলেছিলেন, উন্মত্ত কিছু লোক যদি তাঁদের ঘিরে ধরে নিজের ধর্ম জানতে চায়, আর ঠিক জবাব না পায় তাহলে কী হবে আমার সন্তানদের! কারণ, ধর্মের শিক্ষায় সন্তানদের বড় করেননি তিনি। আরও বলেছিলেন, এদেশে এক পুলিশ কর্মীর দিনের আলোয় খুন হয়ে যাওয়ার থেকেও গরু নিয়ে অনেক বেশি চিন্তিত অনেকে। সপ্তাহ দুয়েক আগে বিশিষ্ট অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহের এই মন্তব্য সামনে আসার পরই রে-রে করে উঠেছিলেন উগ্র জাতীয়তাবাদী কিছু মানুষ। দেশ বিরোধী, বিশ্বাসঘাতক তকমা জুটেছিল নাসিরের। দেশ ছেড়ে পাকিস্তানে গিয়ে থাকার পরামর্শ পর্যন্ত পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এই প্রবল আক্রমণের মুখে না টলে, সে সময় নাসির বলেছিলেন, তিনি দেশকে ভালবাসেন। তাই দেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ হয় তার, তাই মুখ খুলেছেন। ভবিষ্যতেও নিজের কথা বলে যাবেন।
কথা রাখলেন নাসির। ফের বোমা ফাটালেন এই অভিনেতা। শুক্রবার নতুন একটি ভিডিও বার্তা সামনে এনেছে মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্ডিয়া। সেখানে উর্দুতে ফের নিজের মনের কথা বলেছেন নাসির। ভারতীয় সংবিধান লাঘু হওয়ার তারিখ ও তার উদ্দেশ্য তুলে ধরে ফের একবার দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এই অভিনেতা।
বলেছেন, মত প্রকাশের, বাক স্বাধীনতার অধিকার দেশের প্রত্যেক নাগরিককে দিয়েছে সংবিধান। দেশের নাগরিকদের সামাজিক, অর্থনৈতিক অধিকার, ব্যক্তি স্বাধীনতার কথা বলা আছে সেখানে। বলা আছে প্রত্যেকের সমানাধিকার, ধর্মাচরণের অধিকারের কথা। তাই যাঁরা সমাজের দুর্দশা, দুর্নীতি, সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন তাঁরা বকলমে দেশের সংবিধান মেনে, সংবিধান রক্ষার কাজ করছেন, দেশের ভালোর জন্যই কাজ করছেন। কিন্তু আজ, এমন এক পরিস্থিতি দেশে তৈরি হয়েছে যেখানে প্রতিবাদীদের হেনস্থা করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের চুপ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কেউ অধিকারের দাবি করলে তাঁদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। ভয় দেখানো হচ্ছে। বিভিন্ন এজেন্সি দিয়ে তাঁদের বাড়ি, কর্মস্থলে নজরদারি চালানো হচ্ছে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। সমাজকর্মী, লেখক, বুদ্ধিজীবী সবার ওপর নেমে আসছে রাজরোষ। হেনস্থা করা হচ্ছে তাঁদের। ধর্মের নামে বিভেদ, হিংসার প্রাচীর তোলা হচ্ছে। নাসিরের প্রশ্ন, এটাই কি আমাদের দেশ? যেখানে দমন-পীড়নের মাধ্যমে সবাইকে চুপ করানো হবে? যেখানে নিপীড়িত, গরিব, বঞ্চিতদের বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ধনী, বিত্তশালীদের কথা শোনা হবে, ক্ষমতাশালীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে? দেশের সংবিধান কি এই জন্যই লেখা হয়েছিল? প্রশ্ন তুলেছেন নাসিরুদ্দিন শাহ।