পাঁচ রাজ্যে নির্বাচনে বিজেপির ধাক্কা খাওয়ার জন্য কংগ্রেসকে বাড়তি কোনও নম্বর দেননি তৃণমূল নেত্রী। ফলাফল ঘোষণার দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘বিজেপি নেতিবাচক ভোটে হেরেছে। এই জয় সবার।’ এবার সিপিএমও বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর্যালোচনায় কংগ্রেসের জয়কে ‘বাই ডিফল্ট’ বলে ব্যাখ্যা করল। মমতার মতোই সিপিএমও হিন্দি বলয়ের তিন রাজ্যে বিজেপির হারের জন্য কংগ্রেসকে কোনও বাড়তি কৃতিত্ব দিতে নারাজ।
সিপিএমের মুখপত্র পিপলস ডেমোক্রেসির সর্বশেষ প্রকাশিত সংখ্যার সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছে, বিজেপির এই পরাজয় তাৎপর্যপূর্ণ। ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ এবং রাজস্থান তিন রাজ্যে বহুদিন ক্ষমতায় ছিল বিজেপি। এই পরাজয় মোদী-শাহের জয় রথকে থমকে দিয়ে, তাঁদের দুর্দমনীয় মনোভাব ও আত্মবিশ্বাসকে কিছুটা হলেও টলিয়ে দিয়েছে।
কৃষক অসন্তোষ, নোটবন্দির প্রভাব, কর্মসংস্থান তৈরি করতে না পারা, দুর্নীতি এবং সর্বোপরি অপশাসনের জবাব মানুষ দিয়েছেন বলে মূল্যায়ন পিপল ডেমোক্রেসি’র।
সিপিএম মুখপত্রের সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছে, শুধু হিন্দুত্ববাদ ও ধর্মীয় মেরুকরণ করে যে আর সুবিধা করা যাবে না তা বোঝাও সময় এসেছে বিজেপি-আরএসএসের। যোগী আদিত্যনাথের উদাহরণ টেনে সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছে, তিন রাজ্যে তাঁর লাগাতার ৭৩ টি সভা যে ফলপ্রসূ হয়নি এবং তার কারণ কী তা সহজেই বোঝা গেছে। মানুষ শুধু আর ধর্মের রাজনীতিতে ভোলেননি।
পাশাপাশি, কংগ্রেসের সাফল্যকে ‘বাই ডিফল্ট’ বলে কটাক্ষ করেছে সিপিএম মুখপত্র। সিপিএমের ব্যাখ্যা, ওই তিন রাজ্যের মানুষ বিজেপি শাসনে বীতশ্রদ্ধ হয়ে কংগ্রেসের ভোট ব্যাঙ্ক ভরিয়েছেন। বিজেপিকে ‘শিক্ষা’ দিতেই কংগ্রেসকে বেছেছেন তাঁরা। মানুষের যেমন ক্ষোভ ছিল তাতে রাজস্থান, মধ্য প্রদেশে কংগ্রেসের আরও ভালো ফল করা উচিত ছিল। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে বিজেপির হিন্দুত্বের কর্মসূর্চি ধার করতে গিয়ে কংগ্রেসের ফল ভালো হয়নি।
পিপলস ডেমোক্রেসিতে লেখা হয়েছে, মোদী সরকারের নীতি মানুষকে আস্থাহীন করেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, কংগ্রেসের ওপরও যে মানুষ তেমন আস্থাশীল নয়, তা তেলেঙ্গানা ও মিজোরামের ভোটের ফল প্রমাণ করেছে। সেই সঙ্গে, কংগ্রেস যে ‘নরম হিন্দুত্বে’র অবস্থান নিয়েছিল তাও তেমন সফল হবে না বলে সিপিএম মুখপত্রে লেখা হয়েছে, মানুষ অরিজিনালকেই পছন্দ করবে, কপি ক্যাট’কে নয়।
পাশাপাশি, মধ্য প্রদেশ এবং রাজস্থানে নব গঠিত কংগ্রেস সরকারকে সতর্ক করে সিপিএমের ব্যাখ্যা, দুই রাজ্যেই বিজেপি যথেষ্ট ভোট পেয়েছে, এমনকী মধ্য প্রদেশে কংগ্রেসের থেকেও বেশি ভোট পেয়েছে। লোকসভায় বিজেপিকে ধাক্কা দেওয়ার জন্য নতুন সরকারের উচিত অবিলম্বে কৃষক অসন্তোষ, কর্মসংস্থান এবং জনসেবামূলক কর্মসূচি নিয়ে ভাবা।