নির্বাচনী প্রচারে রোড শো ও বাইক মিছিল নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করলেন উত্তর প্রদেশের প্রাক্তন ডিজিপি বিক্রম সিংহ ও পরিবেশবিদ শৈবিকা অগ্রবাল।
আবেদনকারীরা তাঁদের হলফনামায় জানান, নির্বাচনী রোড শো বা বাইক মিছিল যেমন শব্দ ও বায়ুদূষণ ঘটায় তেমনি সৃষ্টি করে যানজট। অন্যদিকে সন্ত্রাসবাদী হামলার আশঙ্কাও বাড়ে নির্বাচনী রোড শোয়ে। তাই সুপ্রিম কোর্টে তাঁদের আর্জি, নির্বাচন কমিশন যেন সবকটি রাজনৈতিক দলকে এই ধরণের মিছিল বন্ধ করার নির্দেশ দেয়।
উত্তর প্রদেশের প্রাক্তন ডিজিপি বিক্রম সিংহ ও পরিবেশবিদ শৈবিকা অগ্রবাল তাঁদের হলফনামায় ১৯৯০ সালের বিজেপির রাম রথ যাত্রা থেকে শুরু করে এখনও পর্যন্ত ৮৭ টি রোড শো ও বাইক মিছিলের উল্লেখ করেন। রোড শো ও বাইক মিছিল নিয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোনও বিধিনিষেধ মানা হয় না বলে দাবি আবেদনকারীদের। হলফনামায় তাঁরা জানান, এই নির্দেশাবলী কেবল খাতায়-কলমেই, বাস্তবে কোনও রাজনৈতিক দলই তার তোয়াক্কা করে না। বেশিরভাগ নির্বাচনী মিছিলে ‘স্টার ক্যাম্পেনার’ প্রচারে বেরোন এমন গাড়ি চেপে যেখানে কিচেন থেকে টয়লেট, ইন্টারনেট পরিসেবা থেকে টিভি, সবই আছে। এই রকম অত্যাধুনিক যানবাহন বা রথও মোটর ভেহিকল অ্যাক্ট এবং সেন্ট্রাল মোটর আইন অমান্য করে বলেও উল্লেখ রয়েছে ওই পিটিশনে। তাছাড়া, এইরকম রোড শো ভিভিআইপি প্রার্থীদের নিরাপত্তার জন্যও বিপজ্জনক হতে পারে দাবি উত্তর প্রদেশের প্রাক্তন ডিজিপি ও পরিবেশবিদ শৈবিকা আগরওয়ালের। হলফনামায় প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী বেনজীর ভুট্টোর হত্যার উদাহরণ টেনে এনে বলা হয়, বিপুল জনসমাবেশের মধ্যে ঘটে যেতে পারে যে কোনও সন্ত্রাসবাদী হামলা। জনস্বার্থ মামলায় তাঁদের দাবি, নেতা-মন্ত্রীদের নিরাপত্তা দিতে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ হয়, কিন্তু মাঝেমাঝেই নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভুলে যান কয়েকজন নেতা।
এছাড়াও পিটিশনে আবেদনকারীরা দাবি করেছেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রায় ৪০ টির বেশি নির্বাচনী প্রচারে অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দল বা নেতার বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন।

You may also like