সাংবাদিক রাম চন্দ্র ছত্রপতিকে খুন ও ষড়যন্ত্র মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলেন স্বঘোষিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম। শুক্রবার রাম রহিমসহ তাঁর সহযোগী তিন শিষ্য কিষাণ লাল, নির্মল সিংহ ও কুলদীপ সিংহকে দোষী সাব্যস্ত করে হরিয়ানার বিশেষ আদালত।
সিবিআই বিচারপতি জগদীপ সিংহ ঘোষণা করেন, ২০০২ সালে ৫১ বছর বয়সী সাংবাদিককে খুন করা হয়। আর এই খুনের ষড়যন্ত্র রাম রহিমেরই মস্তিষ্কপ্রসূত। আগামী ১৭ জানুয়ারি তাঁর শাস্তি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে আদালত।
ইতিমধ্যেই নিজের ডেরায় দুই সন্যাসিনীকে ধর্ষণের দায়ে রোহাতকের জেলে বন্দি রয়েছেন রাম রহিম। ভিডিও কলের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল আদালত।
রাম রহিমের ডেরায় মহিলাদের প্রতিদিন যৌন নির্যাতন করা হয়, এমনই অভিযোগ এনেছিলেন এক শিষ্যা। তাঁর সেই অভিযোগ ২০০২ সালে রাম চন্দ্র ছত্রপতি নিজের সংবাদপত্র ‘পুরা সাচ’এ পুঙ্খানুপুঙ্খ ছেপেছিলেন। এরপরই রাম রহিমের টার্গেট হয়ে পড়েন রাম চন্দ্র। শুরু হয় তাঁকে খুন করার ছক। এরপর, ২০০২ সালের ২৪ শে অক্টোবর সন্ধের দিকে নিজের বাড়ির সামনে গুলি করা হয়েছিল সাংবাদিক রাম চন্দ্র ছত্রপতিকে। অভিযোগ, তাঁকে গুলি করে কুলদীপ সিংহ ও নির্মল সিংহ। রোহতকের স্থানীয় হাসপাতালে প্রথম তাঁকে ভর্তি করা হয়। পরে দিল্লির অ্যাপেলো হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনাস্থল থেকে হাতেনাতে ধরা পড়েছিল কুলদীপ সিংহ। নির্মল সিংহকে ধরা হয়েছিল কয়েকদিন বাদেই। শুরু হয় তদন্ত। ২০০৬ সালে এই তদন্তের দায়িত্ব নেয় সিবিআই। এই খুনে মূল অভিযুক্ত হিসেবে উঠে আসে রাম রহিম ও তাঁর সহযোগীদের নামই।
শুক্রবার হরিয়ানার সিবিআই আইনজীবী জানিয়েছেন, রাম রহিমসহ মোট চার অভিযুক্তকেই দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। রাম রহিমই এই খুনের মূল ষড়যন্ত্রী। এই মামলার জেরে হরিয়ানাজুড়ে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল প্রশাসন। ২০১৭ সালে সন্ন্যাসিনীদের ধর্ষণের ঘটনায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করার সময় নজিরবিহীন হিংসা ছড়িয়ে পড়েছিল বিভিন্ন এলাকায়। সেই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল ৪০ জন সাধারণ মানুষের। আহত হয়েছিলেন ২০০ রও বেশি মানুষ।

You may also like