সুকোমল বসাক। নামটা হয়তো আমাদের অনেকেরই অচেনা। কোচবিহারের তুফানগঞ্জের বাসিন্দা এই মানুষটি ২০০৯ সালে সম্মানিত হয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কারে। পেশায় মুদিখানার দোকানের মালিক, দ্বাদশ শ্রেণী উত্তীর্ণ এই মানুষটি নিজের চেষ্টায় এমন একটি পাত্র বানিয়েছিলেন, যা জলের অপচয় রোধে সহায়ক এবং সেন্সরের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একাধিক পাত্রে পরিমাণ মতো জলও ঢালতে পারে। ২০০৮ সালে তাঁর এই উদ্ভাবন প্রশংসা পায় ন্যাশনাল ইনোভেটিভ ফাউন্ডেশনের। এরপরই ২০০৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাটিল তাঁকে সম্মানিত করেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কারে। সুকোমলবাবুর আক্ষেপ, প্রায় ১০ বছর কাটতে চলল, এই পুরস্কারে সম্মানিত হলেও তাঁর সঙ্গে পরে আর কেউ যোগাযোগ করেনি। রাজ্য সরকারের তরফেও কোনও সাড়া পাননি তিনি।

সুকোমল বসাক।

সবাই ভুলে গেলেও সুকোমলবাবুর কথা কিন্তু মনে রেখেছিলেন কলকাতার তরুণ চিত্র পরিচালক দিগন্ত দে। জন্মসূত্রে তুফানগঞ্জের বাসিন্দা দিগন্ত ২০১৭ সালে সুকোমল বসাককে নিয়ে একটি তথ্যচিত্র বানিয়েছেন। নাম ‘রোড সাইড সায়েন্টিস্ট’। সুকোমলবাবুকে নিয়ে বানানো দিগন্তের এই মিনিট দশেকের তথ্যচিত্রটি সম্প্রতি ডাক পেয়েছে রাশিয়া থেকে। ৪ জুন থেকে সেখানে শুরু হয়েছে ‘ইন্টারন্যাশনাল ইকোলজিকাল টেলিফেস্টিভাল’। সেখানেই এবার দেখানো হচ্ছে ‘রোড সাইড সায়েন্টিস্ট’।

দিগন্ত দে।

তথ্যচিত্রটি ইতিমধ্যেই প্রদর্শিত হয়েছে দেশ বিদেশের নানা ফিল্ম ফেস্টিভালে। গত বছর কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও প্রশংসা কুড়িয়েছিল এই তথ্যচিত্রটি। চলতি বছরে ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটি আয়োজিত প্রথম ‘সাউথ এশিয়ান শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভাল’এও প্রতিযোগিতামূলক বিভাগে নির্বাচিত হয়েছিল এই ‘রোড সাইড সায়েন্টিস্ট’। এছাড়াও ইতালি, ব্রিটেন, কলম্বিয়ার একাধিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে দিগন্ত দে’র এই তথ্যচিত্র। পরিচালক জানিয়েছেন, তিনি চেয়েছিলান সুকোমল বসাকের এই কাজ সকলের সামনে তাঁর তথ্যচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরতে। তাই ‘রোড সাইড সায়েন্টিস্ট’ দেশে-বিদেশে সমাদৃত হওয়ায় তিনি গর্বিত।

You may also like