রাজনৈতিক দলগুলির প্রাপ্ত অনুদানের ৯৯.৮ শতাংশ সাহায্যই এসেছে সর্বোচ্চ মূল্য ১০ লক্ষ টাকা ও ১ কোটি টাকার ইলেক্টোরাল বন্ডের মাধ্যমে, আরটিআই আবেদনের প্রেক্ষিতে জানাল স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া। এসবিআই ১ হাজার, ১০ হাজার, ১ লক্ষ, ১০ লক্ষ এবং ১ কোটি-এই পাঁচটি অর্থমূল্যে ইলেক্টোরাল বন্ড বিক্রি করে।
গত শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ৩১ শে মে’র মধ্যে সবকটি রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিতে হবে। অন্যদিকে, সমাজকর্মী চন্দ্রশেখর গৌড় তথ্যের অধিকার আইনে আবেদন করে এসবিআইয়ের তরফে জানতে পেরেছেন, ২০১৮ সালের মার্চ থেকে ২৪ শে জানুয়ারি, ২০১৯ পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলির পাওয়া মোট অনুদানের ৯৯.৮ শতাংশই এসেছে ইলেক্টোরাল বন্ডের সর্বোচ্চ দুটি মূল্যের মাধ্যমে। এই নির্বাচনী বন্ডগুলির অর্থ মূল্য ১০ লাখ টাকা এবং ১ কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্ট আরটিআইয়ে প্রকাশ, এক বছরের মধ্যে অনুদানদাতারা ১ হাজার ৪০৭ কোটি ৯ লক্ষ টাকার নির্বাচনী বন্ড কিনেছেন। যার মধ্যে ১ হাজার ৪০৩ কোটি ৯০ লক্ষ টাকার বন্ডই কেনা হয়েছে ১০ লক্ষ ও ১ কোটি টাকা মূল্যের।
চন্দ্রশেখর গৌড়ের আরটিআইয়ের প্রেক্ষিতে স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া যে তথ্য দিয়েছে, সেখান থেকে জানা যাচ্ছে, ১০ লক্ষ টাকা মূল্যের নির্বাচনী বন্ড কেনা হয়েছে ১,৪৫৯ টি। অনুদানদাতারা ১ কোটি টাকা মূল্যের বন্ড কিনেছেন ১,২৫৮ টি। যেখানে ১ লক্ষ টাকা মূল্যের বন্ড বিক্রি হয়েছে ৩১৮টি, ১০ হাজার টাকা মূল্যের বন্ড ১২ টি এবং ১০০০ টাকা মূল্যের নির্বাচনী বন্ড বিক্রি হয়েছে ২৪ টি।
প্রায় ১,৪০৮ কোটি টাকার নির্বাচনী বন্ডের মধ্যে প্রায় ১,৩৯৪ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই ভাঙিয়ে নিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলি। কিন্তু কোন রাজনৈতিক দল কত টাকা পেয়েছে এবং কত টাকা ভাঙিয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি। চন্দ্রশেখর গৌড় তাঁর আরটিআইতে এই দুটি উত্তরও চেয়েছিলেন। এর প্রতিক্রিয়ায় স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া জানায়, এই সম্পর্কে তারা কোনও উত্তর দিতে বাধ্য নয়।
এসবিআইয়ের কাছ থেকে সাত কিস্তিতে এই নির্বাচনী বন্ড কেনা যায়। ১ হাজার, ১০ হাজার, ১ লক্ষ, ১০ লক্ষ এবং ১ কোটি-এই পাঁচটি অর্থমূল্যে বিক্রি করা হয় নির্বাচনী বন্ডগুলি।

You may also like