রাফাল ডিল নিয়ে কংগ্রেস, সিপিএম, তৃণমূলের পর এবার মুখ খুলল শিবসেনাও।
নাম না করে অনিল আম্বানীকে খোঁচা দিয়ে শিবসেনা প্রশ্ন তুলল, বায়ু সেনাকে শক্তিশালী করতে, নাকি অর্থনৈতিকভাবে বিধ্বস্ত শিল্পপতির পকেট ভরাতে রাফাল ডিল করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী? শিবসেনার দলীয় মুখপত্র ‘সামনা’তে প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করে লেখা হয়, বৃহস্পতিবার রাফাল প্রসঙ্গে বিরোধীদের কটাক্ষের জবাবে দেশভক্তি নিয়ে সংসদে অনেক বক্তব্য রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। আর ঠিক পরের দিনই রাফাল নিয়ে ‘ব্ল্যাক পেজ’ বেরলো। যাঁরা টেবিল চাপড়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর দেশভক্তির স্লোগান দিচ্ছিলেন তাঁরাও এখন চুপ।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার ইংরেজি সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’তে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সেখানে বলা হয়, রাফাল যুদ্ধ বিমান নিয়ে ফ্রান্সের সঙ্গে ‘সমান্তরালভাবে আলোচনা’ চালিয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর দফতর। ওই প্রতিবেদনে ২০১৫ সালে লেখা তৎকালীন প্রতিরক্ষা সেক্রেটারি জি মোহন কুমারের একটি নোট নজরে আনা হয়। যেখানে জি মোহন কুমার লিখেছিলেন, রাফাল প্রসঙ্গে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক যে পদক্ষেপ করছে তার উল্টো পথে হাঁটছে প্রধানমন্ত্রীর দফতর। সেই প্রতিবেদনকেই ‘ব্ল্যাক পেজ’ বলে উল্লেখ করে ‘সামনা’তে লেখা হয়েছে, বায়ু সেনাকে শক্তিশালী করতে নাকি এই ডিল চূড়ান্ত হয়েছিল অর্থনৈতিকভাবে বিধ্বস্ত শিল্পপতিকে সাহায্য করার জন্য।
রাফাল ডিলে দুর্নীতির অভিযোগে কয়েক মাস ধরেই প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী ও অন্যান্য বিরোধী নেতারা। রাহুলের অভিযোগ, অনিল আম্বানীর কোম্পানি রিলায়েন্সকে যুদ্ধ বিমান তৈরির বরাত পাইয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। শিবসেনাও ‘দ্য হিন্দু’র প্রতিবেদনকে সামনে রেখে একই অভিযোগ আনে মোদীর বিরুদ্ধে। রাহুলের সুরে গলা মিলিয়ে শিবসেনার কটাক্ষ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা দফতরের সেক্রেটারিকে এড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজে রাফাল ডিল করেছেন। তাই রাফাল-বিতর্কে বিরোধীদের অভিযোগ ও সমালোচনার যাবতীয় জবাব প্রধানমন্ত্রীকেই দিতে হবে। উদ্ভব ঠাকরের দলের কটাক্ষ, বিজেপি জমানায় জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেমের সংজ্ঞা বদলে গিয়েছে। যে রাফাল ডিলকে হাতিয়ার করে দেশপ্রেমের প্রমাণ দিতে চেয়েছিলেন কয়েকজন নেতা-মন্ত্রী, সেই ডিলই এখন বিশ্বাসঘাতকতার সন্দেহে বিদ্ধ।
‘সামনা’ তে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, দেশের মানুষ বারবার প্রশ্ন তুলছেন, কীভাবে যুদ্ধবিমান তৈরির খরচ ৫০০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১৬০০ কোটি টাকা হল। এর সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত এই প্রশ্ন তাঁরা করতেই থাকবেন।
পাশাপাশি, শিবসেনার মুখপত্রে লেখা হয়েছে, বিগত চার-পাঁচ বছর ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একা হাতে সরকার পরিচালনা করছেন, কিন্তু মূল্যবৃদ্ধি বা দুর্নীতি প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠলেই কংগ্রেসকেই পরোক্ষে দায়ী করে এসেছেন।

You may also like