২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে উত্তর প্রদেশে ৮০ টি আসনের মধ্যে ৭১ টি আসনে জয়লাভ করে বিরোধী দলগুলিকে কার্যত মুছে দিয়েছিল বিজেপি।
তবে, গত এক বছরে দেশের সবচাইতে বড় এবং রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই রাজ্যের একাধিক উপনির্বাচনে বিএসপি-এসপি এবং আরএলডির মধ্যে জোট হয় এবং যার জেরে গোরক্ষপুরের মতো আসনও হারতে হয়েছে বিজেপিকে।
এবার ২০১৯ নির্বাচনেও কি উত্তর প্রদেশে বিজেপিকে রুখতে ফের আসন সমঝোতা হতে চলেছে এই তিন দলের মধ্যে? এমনই খবরকে কেন্দ্র করে বুধবার সারাদিন জল্পনা ছড়াল রাজনৈতিক মহলে। বিভিন্ন সূত্র মারফত আসা খবরের ভিত্তিতে এদিন জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনা শুরু হয়ে যায়, আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসকে ছাড়াই নিজেদের মধ্যে জোট তৈরি করতে চলেছে মায়াবতীর বিএসপি, অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টি ও অজিত সিংহের রাষ্ট্রীয় লোক দল। নিজেদের মধ্যে তাঁরা আসন বন্টন নিয়ে প্রাথমিক সমঝোতাও করে ফেলেছেন বলে খবর। মায়াবতীর বিএসপি ৩৮ টি আসনে, অখিলেশের এসপি ৩৭ টি এবং অজিত সিংহের আরএলডি ২টি আসনে লড়বে। তবে কংগ্রেসের ২ শক্তিশালী কেন্দ্র রায়বেরিলি ও আমেঠিতে কোনও প্রার্থী দেবে না এই তিন দলের কেউই।
যদিও, এই খবরকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন মায়াবতীর দলের এক নেতা। এক সময় দুই বিরোধী শিবির বলে পরিচিত বিএসপি ও এসপি জোট গড়তে চলেছে বলে একাধিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। উত্তর প্রদেশে দুই শক্তিশালী দল বিএসপি ও এসপির মধ্যে প্রাক-নির্বাচনী জোট হলে বিজেপি প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়বে বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা। যদিও বিএসপি নেতা সতীশ মিশ্র বলেন, কোন সূত্র থেকে এমন জল্পনা তৈরি হয়েছে তা তিনি জানেন না। এর কোনও সত্যতা নেই।
এদিকে, দিল্লিতে কংগ্রেস ও দেশের বিজেপি বিরোধী দলগুলির বৈঠকে মায়াবতী বা অখিলেশ কারোরই না যাওয়া এবং ৩ রাজ্যে কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানেও তাঁদের অনুপস্থিতি নিয়ে একটা জল্পনা তৈরি হয়। তাছাড়া, আগামী ১১ ই জানুয়ারি মায়াবতীর ৬৩ তম জন্মদিনে কোনও বিজেপি বা কংগ্রেস নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো না হওয়ায় এই জল্পনা আরও বেড়েছে। আর জন্মদিনেই মায়াবতী নিজেদের জোট বার্তা ঘোষণা করবেন বলে সূত্রের খবর। কিন্তু সতীশ মিশ্র জানান, মায়াবতীর জন্মদিনে কাউকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এমন জোটের কথা অস্বীকার করেছেন সমাজবাদী নেতা রাম গোপাল যাদবও।