ত্রাণ নিয়ে ভাঙচুরের রাজনীতি হচ্ছে, অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর, ত্রাণ চেয়ে কেন্দ্রকে চিঠি পাঠাচ্ছে রাজ্য

বুলবুল পরবর্তী ত্রাণ নিয়ে কেউ কেউ ভাঙচুরের রাজনীতি করছে বলে অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। বৃহস্পতিবার নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এত বড় একটা বিপর্যয় হয়ে গেল, কোথায় সবাই একযোগে কাজ করবে। তা না, ঝড় নিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে। কোনও কোনও দল দু’একটা লোক নিয়ে রাস্তায় নেমে ভাঙচুর চালাচ্ছে। সরকার কিন্তু বিষয়টি ভালোভাবে দেখছে না।
এদিনের বৈঠকে বুলবুলের জন্য ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক হিসেব নিকেষ নেন মুখ্যমন্ত্রী অফিসারদের কাছ থেকে। ঠিক হয়, কেন্দ্রের কাছে আর্থিক সাহায্যের জন্য চিঠি দেওয়া হবে। ক্ষয়ক্ষতির অবস্থা খতিয়ে দেখতে দ্রুত কেন্দ্রীয় সমীক্ষক দল রাজ্যে আসুক। এটাই চান মুখ্যমন্ত্রী। পরে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, বুলবুলের দাপটে তিন জেলায় ন’জন মারা গিয়েছে। মাত্র ন’জনের মৃত্যু দেখে অনেকে এই ঝড়ের ব্যাপকতা আন্দাজ করতে পারছেন না। আমি নিজে আকাশপথে ঘুরে দেখেছি, কী ভয়াবহ বিপর্যয় হয়েছে। প্রায় ১৫ লক্ষ হেক্টর কৃষিজমি প্লাবিত হয়েছে। কয়েক লক্ষ মানুষকে নিরাপদে সরাতে হয়েছে। এখনও তার ধাক্কা মানুষ কাটিয়ে উঠতে পারেনি। তাঁর ক্ষোভ, এই অবস্থার মধ্যেও চলছে রাজনীতি। তিনি বলেন, কেন এসব করা হচ্ছে বুঝতে পারছি না।
বুধবার নামখানা-কাকদ্বীপের বিধ্বস্ত এলাকায় গিয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়েন। তাঁকে ঘিরে কালো পতাকা দেখানো হয়। ‘গো ব্যাক’ স্লোগান ওঠে। বাবুলের অবশ্য অভিযোগ, সাধারণ মানুষ নন, তৃণমূলই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিক্ষোভ দেখিয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পাল্টা দাবি, সাধারণ মানুষ ত্রাণ পাচ্ছে না বলে তাঁর কাছে অভিযোগ করেছে বিভিন্ন জায়গায়। তিনি বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নামখানা-কাকদ্বীপ গিয়েছিলাম।
মুখ্যমন্ত্রী যতই বলুন, ত্রাণ নিয়ে যেন রাজনীতি ও দলবাজি না হয়, বিরোধী নেতারা কিন্তু দলবাজির অভিযোগ তুলছেন। মুখ্যমন্ত্রী সেই অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে বলেন, এরা নিজেরা কিছু করবে না, কাউকে কিছু করতেও দেবে না।

 

Comments
Loading...