তুলে নেওয়া হল সংবিধানের ৩৭০ ধারা। ফলে বিশেষ রাজ্যের তকমা হারালো জম্মু-কাশ্মীর। সোমবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সংসদে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা খর্ব করার কথা ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। যা নিয়ে সংসদে শুরু হয়ে যায় হইহল্লা। দুই পিডিপি সাংসদকে মার্শাল ডেকে অধিবেশন থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান বেঙ্গাইয়া নাইডু। যদিও তাতেও ফেরেনি শান্তি। সংবিধানকে হত্যা করার অভিযোগে প্রবল বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন একাধিক বিরোধী সাংসদ।
কিন্তু কেন এত হইচই, কী আছে সংবিধানের ৩৭০ ধারায়?
ধারা ৩৭০ কী?
আরও পড়ুন: আলিবাবা থেকে অবসর জ্যাক মার, দু’দশক ব্যবসা সামলানোর পর এবার মন দিতে চান পড়ানোয়
আর্টিকেল ৩৭০ সংবিধানের সাময়িক সংস্থান বা টেম্পোরারি প্রভিসন হিসেবে জম্মু ও কাশ্মীরকে বিশেষ এবং স্বায়ত্তশাসনের ক্ষমতা প্রদান করেছিলো। এই বিশেষ ক্ষমতার বলে, অন্যান্য রাজ্যে সংবিধানের যে সমস্ত সংস্থান প্রয়োগ করা যায়, তা জম্মু-কাশ্মীরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত কাশ্মীরে রাজ্যপালের বদলে ছিলেন সদর-ই-রিয়াসত এবং মুখ্যমন্ত্রীর পদকে বলা হতো প্রধানমন্ত্রী।
ধারা ৩৭০ এর ইতিহাস
ভারতে অন্তর্ভুক্তির পর, ১৯৪৯ সালে রাজা হরি সিংহের কাছ থেকে শাসনভার নিজের হাতে তুলে নেন ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা শেখ আবদুল্লা। সেই সময় জম্মু-কাশ্মীরের মানুষের জন্য বিশেষ কতগুলো সুযোগ সুবিধার দাবি নিয়ে দিল্লির সঙ্গে দর কষাকষি শুরু হয় এনসির। এই প্রেক্ষিতেই সংবিধানে ৩৭০ নম্বর ধারার অন্তর্ভুক্তি।
আরও পড়ুন: গত ২ বছরে ছাপা হয়নি একটিও ২০০০ টাকার নোট, সংসদে জানালেন মন্ত্রী
যদিও শেখ আবদুল্লার দাবি ছিল, সাময়িক সংস্থান বা টেম্পোরারি প্রভিসন হিসেবে নয় সংবিধানের ৩৭০ ধারার স্থায়ী প্রয়োগ। কিন্তু ভারত সরকার সেই প্রস্তাব মানেনি। সেই সময় থেকেই অস্থায়ী সংস্থানটি চলছে। তা কখনও স্থায়ী করা না হলেও, প্রত্যাহারের প্রশ্নও আসেনি।
কী আছে ধারা ৩৭০ এ?
এই আইন অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা, বিদেশ, অর্থ এবং কমিউনিকেশন ছাড়া অন্য কোনও আইনের প্রয়োগ করতে হলে সংসদকে বাধ্যতামূলকভাবে জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভার সম্মতি নিতে হবে। এর ফলে রাজ্যের বাসিন্দাদের জন্যও পৃথক আইন, যা দেশের বাকি অংশ থেকে আলাদা।
এই বিশেষ সুবিধার ফলে একমাত্র বাসিন্দারাই সেখানে জমি বা সম্পত্তি কিনতে পারবেন। ভারতের নাগরিক, অন্য কোনও রাজ্যের বাসিন্দা জম্মু-কাশ্মীরে জমি বা সম্পত্তি কিনতে পারবেন না। আর্টিকেল ৩৬০ তে দেওয়া ক্ষমতা অনুযায়ী কেন্দ্র দেশের কোনও রাজ্যে অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা জারি করতে পারে। কিন্তু ৩৭০ ধারার ফলে জম্মু-কাশ্মীরে কেন্দ্রীয় সরকারের এই এক্তিয়ার থাকে না। কেবলমাত্র যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জম্মু-কাশ্মীরে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারে কেন্দ্র। তাও সেখানকার বিধানসভার সম্মতির পর।
ধারা ৩৭০ এর ড্রাফ্টটি তৈরি করেছিলেন গোপালাস্বামী আয়েঙ্গার। প্রথম মন্ত্রিসভায় গোপালাস্বামী পদহীন মন্ত্রী হিসেবে ছিলেন। জম্মু-কাশ্মীরের মহারাজা হরি সিংহের দেওয়ান ছিলেন তিনি। তাঁর হাতেই বিলটির খসড়া তৈরি হয়। পরবর্তীতে যা সংবিধানের ৩৭০ ধারা হিসেবে পরিচিতি পায়।
