নিজস্ব সংবাদদাতা: বিনোদন দুনিয়ায় পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং বাবার আত্মত্যাগের গল্প দর্শকদের সব সময়ই আবেগপ্রবণ করে তোলে। এবার ওপার বাংলার একটি জনপ্রিয় নাটকে এক নিঃস্বার্থ বাবার চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের চোখে জল এনে দিলেন প্রবীণ অভিনেতা আজিজুল হাকিম। নাটকে মেয়ের ধুমধাম করে বিয়ে দেওয়ার জন্য নিজের জীবনের সমস্ত সঞ্চয় উজাড় করে দিয়ে এক নিঃস্বার্থ পিতার জীবন্ত রূপ ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি। নাটকটি সম্প্রচারিত হওয়ার পর থেকেই সোশাল মিডিয়ায় আজিজুল হাকিমের অভিনয় এবং বাস্তবসম্মত স্ক্রিপ্ট নিয়ে ধন্য ধন্য করছেন দুই বাংলার দর্শক।
মেয়ের খুশির জন্য সব বিলিয়ে দিলেন বাবা নাটকের গল্পটি আবর্তিত হয়েছে একটি মধ্যবিত্ত পরিবারকে কেন্দ্র করে। যেখানে আজিজুল হাকিম একজন সৎ ও সাধারণ চাকুরিজীবী বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছেন। জীবনের শেষ বয়সে এসে মেয়ের একটি বড় ঘরে বিয়ে ঠিক হওয়ায় আনন্দের পাশাপাশি বাবার মাথায় চেপে বসে বিশাল খরচের বোঝা। সমাজের বুকে মেয়ের সম্মান ধরে রাখতে এবং তার মুখে হাসি ফোটাতে নিজের তিল তিল করে জমানো প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা, ফিক্সড ডিপোজিট, এমনকি অবসরের পর পাওয়া সমস্ত অর্থ এক লহমায় খরচ করে ফেলেন তিনি। মেয়ের বিয়ের সানাই যখন বাজছে, তখন আড়ালে দাঁড়িয়ে এই বাবার নিঃস্ব ও রিক্ত হওয়ার বেদনাই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে গল্পে।
আজিজুল হাকিমের অনবদ্য অভিনয় এবং দর্শকদের আবেগ নাটকের একটি বিশেষ দৃশ্যে যখন আজিজুল হাকিম তাঁর খালি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বইয়ের দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে চোখের জল ফেলছেন, সেই দৃশ্যটি দর্শকদের মন ছুঁয়ে গিয়েছে। সোশাল মিডিয়ায় নাটকটির ক্লিপিং ভাইরাল হতেই নেটিজেনরা মন্তব্য করছেন যে, এটি কেবল কোনো নাটকের দৃশ্য নয়, বরং বাস্তব জীবনের লক্ষাধিক মধ্যবিত্ত বাবার আসল প্রতিচ্ছবি। আজিজুল হাকিমের সংযত অথচ অত্যন্ত শক্তিশালী অভিব্যক্তি এই চরিত্রটিকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। অনেকেই বলছেন, দীর্ঘদিন পর ওপার বাংলার নাটকে এমন মনকাড়া পারিবারিক গল্প এবং শক্তিশালী অভিনয় দেখার সুযোগ মিলল।
পারিবারিক মূল্যবোধের গল্পে জোয়ার বিনোদন বিশেষজ্ঞদের মতে, ইদানীং সস্তা বিনোদন বা অতি-নাটকীয়তার ভিড়ে এই ধরনের পারিবারিক মূল্যবোধের গল্প হারিয়ে যাচ্ছিল। আজিজুল হাকিম অভিনীত এই নাটকটি প্রমাণ করল যে, দর্শক এখনো মা-বাবা এবং সন্তানের নিখাদ সম্পর্কের টানাপোড়েনের গল্প দেখতে ভালোবাসেন। পরিচালকের দূরদর্শিতা এবং আজিজুল হাকিমের মতো একজন অভিজ্ঞ অভিনেতার যুগলবন্দি এই কাজটিকে একটি কালজয়ী রূপ দিয়েছে। দুই বাংলার দর্শকই এই নাটকটিকে বছরের অন্যতম সেরা পারিবারিক কাজ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।




