দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: বলিউডে টিকে থাকার লড়াই কখনওই খুব একটা সহজ নয়। বিশেষ করে ২০০০ সালের শুরুর দিকে, যখন নতুন অভিনেতা বা অভিনেত্রীদের কাজের কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকত না। সম্প্রতি পরিচালক ফারহা খানের একটি ফুড ভ্লগে উপস্থিত হয়ে সেই কঠিন দিনগুলোর কথাই স্মরণ করলেন বলিউড অভিনেত্রী দিয়া মির্জা। তিনি জানান, কেরিয়ারের শুরুতে টানা ২৭ থেকে ২৮ ঘণ্টা কাজ করেছেন তিনি। এমনকী, চিত্রনাট্য না পড়েই তাঁকে সই করতে হয়েছিল একাধিক ছবিতে।
‘চিত্রনাট্য ছাড়াই সই করতে হতো ৫টি ছবিতে’
ফারহা খানের ওই ভ্লগে দিয়ার বাড়িতে গিয়েছিলেন পরিচালক নিজে। সেখানেই আড্ডার ছলে উঠে আসে পুরনো দিনের কথা। দিয়া জানান, বর্তমানে নতুন তারকারা ইন্ডাস্ট্রিতে আসার আগে যে ধরনের তালিম পান, তিনি তার কিছুই পাননি। তাঁর কথায়, ‘একসঙ্গে ৫টি ছবিতে অভিনয়ের জন্য আমাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। দিনে ২৪ থেকে ২৮ ঘণ্টা পর্যন্ত টানা কাজ করতে হতো। কোনও চিত্রনাট্য পেতাম না। ফোনে গল্প শুনিয়ে বলা হতো, এটি সুপারহিট হতে চলেছে, তাই শুধু অভিনয়টা করে যাও।’ ২০০১ সালে পূজা এন্টারটেইনমেন্টের প্রযোজনায় ‘রহেনা হ্যায় তেরে দিল মে’ ছবির হাত ধরে বলিউডে পা রাখেন দিয়া। তাঁর মন্তব্যে স্পষ্টতই উঠে এসেছে প্রযোজনা সংস্থাগুলির তৎকালীন কর্মসংস্কৃতির চিত্র।
দীপিকার সঙ্গে নিজের অভিষেকের তুলনা
এই আড্ডায় ফারহা খানের পরিচালিত ‘ওম শান্তি ওম’ ছবির প্রসঙ্গও উঠে আসে। ২০০৭ সালে এই ছবির মাধ্যমেই বলিউডে পা রেখেছিলেন দীপিকা পাড়ুকোন। দিয়া ফারহাকে মনে করিয়ে দেন, দীপিকাকে আত্মপ্রকাশের আগে কতটা যত্ন এবং প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। দিয়া বলেন, ‘আমি শুনেছি আপনি আপনার লঞ্চ করা তারকাদের কতটা ভালোবাসা এবং যত্ন দেন। তাদের ওয়ার্কশপ, অভিনয়ের ক্লাস, নাচের তালিম সবকিছু করানো হয়। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে এমন কিছুই হয়নি।’ দিয়ার এই কথার প্রেক্ষিতে ফারহা খানও স্বীকার করে নেন যে, তিনি দীপিকাকে অভিনয়ের পাশাপাশি কত্থক নাচের প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন এবং সেটে কাজ বোঝার জন্য সময় দিয়েছিলেন।
দিয়ার আগামী প্রোজেক্ট
পুরনো দিনের সেই কঠিন অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি নিজের আগামী ছবির কথাও জানিয়েছেন দিয়া মির্জা। খুব শীঘ্রই তাঁকে দেখা যাবে ‘ইক্কা’ নামের একটি কোর্টরুম ড্রামায়। সিদ্ধার্থ পি মালহোত্রা পরিচালিত এই ছবিটি আগামী ১০ জুলাই নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেতে চলেছে। দিয়া ছাড়াও এই ছবিতে রয়েছেন সানি দেওল, অক্ষয় খান্না এবং তিলোত্তমা সোমের মতো তারকারা।




