বিনোদন ডেস্ক: বলিউড তারকা শাহিদ কাপুরের আসন্ন সিনেমা ‘ককটেল ২’ (Cocktail 2) মুক্তি পাওয়ার আগেই বড়সড় বিতর্কে জড়িয়ে পড়ল। ছবিটিকে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সার্টিফিকেশন বা সেন্সর বোর্ড (CBFC) ‘এ’ (A Certificate) অর্থাৎ কেবল প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য শংসাপত্র দেওয়ায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিনেতা। শাহিদের মতে, এই ছবিতে এমন কোনো আপত্তিকর বা কুরুচিকর দৃশ্য নেই যার জন্য এটিকে ফ্যামিলি অডিয়েন্স বা পরিবারের সবার দেখা থেকে বঞ্চিত করতে হবে। সেন্সর বোর্ডের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ছবিটির পুনরায় মূল্যায়নের দাবি তুলেছেন পর্দার ‘কবীর সিং’।
এ’ সার্টিফিকেট দেওয়ায় ক্ষুব্ধ শাহিদ কাপুর বিনোদন দুনিয়ার এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে শাহিদ কাপুর সেন্সর বোর্ডের এই সার্টিফিকেশন নিয়ে নিজের ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, ককটেল ২ একটি আধুনিক সম্পর্কের গল্প। সমসাময়িক বাস্তবতাকে পর্দায় তুলে ধরা হয়েছে মানেই তা কেবল প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য, এই ধারণাটাই ভুল। ছবিটিতে এমন কোনো হিংসা, নগ্নতা বা অশ্লীলতা নেই যা পরিবারের সকলে একসঙ্গে বসে দেখতে পারবেন না।
শাহিদ আরও যোগ করেন, বর্তমান যুগের দর্শকেরা অত্যন্ত পরিপক্ব। ওটিটি (OTT) প্ল্যাটফর্মের জমানায় মানুষ সব ধরনের কনটেন্ট দেখছেন। এই পরিস্থিতিতে সেন্সর বোর্ডের এমন রক্ষণশীল মনোভাব ছবির বাণিজ্যিক সাফল্য এবং বৃহত্তর দর্শকের কাছে পৌঁছানোর ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
আধুনিক গল্প বনাম সেন্সর বোর্ডের কাঁচি চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, ককটেল ২ ছবিটির বেশ কিছু ডায়ালগ এবং সম্পর্কের জটিল রসায়নের ওপর ভিত্তি করেই সিবিএফসি-র পক্ষ থেকে এই ‘এ’ সার্টিফিকেট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ছবির নির্মাতারা এবং শাহিদ কাপুর দুজনেই মনে করছেন, গল্পটিকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। এটি মূলত আজকের প্রজন্মের প্রেম, বন্ধুত্ব এবং মানসিক টানাপোড়েনের এক সৎ প্রতিচ্ছবি। সেন্সর বোর্ডের এই ‘প্রাপ্তবয়স্কদের’ তকমা ছবির মূল আবেগকে দর্শকদের একাংশের কাছে ভুলভাবে উপস্থাপন করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বক্স অফিসে প্রভাবের আশঙ্কা, রিভিউতে যাওয়ার প্রস্তুতি বলিউড বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো বড় বাজেটের ছবির ক্ষেত্রে ‘এ’ সার্টিফিকেট পাওয়া মানেই থিয়েটারে পারিবারিক দর্শকদের একটি বড় অংশকে হারানো। বিশেষ করে শাহিদ কাপুরের মতো তারকার ছবি যেখানে সব বয়সের মানুষ দেখতে পছন্দ করেন, সেখানে এই সিদ্ধান্ত বক্স অফিস কালেকশনে প্রভাব ফেলতে পারে। ছবির প্রযোজনা সংস্থা ইতিমধ্যেই এই রায়ের বিরুদ্ধে সেন্সর বোর্ডের রিভাইজিং কমিটির (FCAT/Revising Committee) দ্বারেস্থ হওয়ার পরিকল্পনা করছে। শাহিদের এই কড়া বয়ানের পর বলিউডের অন্দরেও সেন্সরশিপের আধুনিকীকরণ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।




