দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার মেগাস্টার থ্যালাপ্যাথি বিজয় এবং তাঁর স্ত্রী সঙ্গীতার বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা জল্পনায় অবশেষে আইনি সিলমোহর পড়ল। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে চেন্নাইয়ের পারিবারিক আদালত এই হাই-প্রোফাইল মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেছে।
অবশেষে আইনি বিচ্ছেদ বিগত কয়েক বছর ধরেই বিজয় এবং সঙ্গীতার দাম্পত্য কলহ এবং আলাদা থাকার খবর বিনোদন জগতে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছিল। বিশেষ করে বিজয়ের রাজনৈতিক দল ‘তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম’ (TVK) গঠনের পর থেকে এই গুঞ্জন আরও তীব্র হয়। সম্পর্কের টানাপোড়েন এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। চেন্নাই ফ্যামিলি কোর্টে দায়ের হওয়া ডিভোর্স মামলার সাম্প্রতিক শুনানিতে দুই পক্ষই আইনিভাবে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্তে সম্মতি জানায়। আদালত সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের আবেদনে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।
বিপুল খোরপোশ ও সম্পত্তির রফা আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতেই এই বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়েছে। সূত্রের খবর, খোরপোশ এবং সম্পত্তি বণ্টনের বিষয়টি অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে রফা করা হয়েছে। বিজয়ের চেন্নাইয়ের বিলাসবহুল বাংলো এবং বেশ কিছু স্থাবর সম্পত্তির একটি বড় অংশ সঙ্গীতা এবং তাঁদের সন্তানদের নামে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে এই বিপুল আর্থিক লেনদেনের সঠিক অঙ্ক নিয়ে দুই পক্ষের আইনজীবী বা পরিবারের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে আইনি প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে পরিচালনা করা হয়েছে বলে খবর।
২২ বছরের দাম্পত্যে ইতি ১৯৯৯ সালে লন্ডনের বাসিন্দা সঙ্গীতা সোর্নালিঙ্গমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন বিজয়। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে, ছেলে সঞ্জয় এবং মেয়ে দিব্যা। একসময় দক্ষিণ ভারতীয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম আদর্শ দম্পতি হিসেবে পরিচিত ছিলেন তাঁরা। কিন্তু দীর্ঘ ২২ বছরেরও বেশি সময়ের বৈবাহিক সম্পর্কের এই আকস্মিক সমাপ্তি থ্যালাপ্যাথি বিজয়ের লক্ষ লক্ষ অনুরাগীকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। বর্তমানে অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতিতে পূর্ণাঙ্গ সময় দিচ্ছেন বিজয়, আর তার মাঝেই ব্যক্তিগত জীবনের এই বড় ধাক্কা তাঁর কেরিয়ারে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার।




