উদ্বোধনের কথা থাকলেও আসতে পারেননি অমিতাভ বচ্চন। তাঁর অনুপস্থিতিতে চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনের আসর মাতালেন কিং খান শাহরুখ। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দিলেন বাংলার দাদা এবং সদ্য নির্বাচিত বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। মিনিট খানেকের আবেগ এবং প্রতিবাদে ভরা বক্তৃতায় সকলের মন ছুঁয়ে নিলেন রাখী গুলজার এবং মহেশ ভট্ট। সংক্ষেপে এই ছিল ২৫ তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
বিগ বি অমিতাভ বচ্চনের অনুপস্থিতি বাদ দিলে প্রত্যাশা মতোই শুক্রবার তারকা খচিত জমকালো উদ্বোধন হল ২৫ তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাখী গুলজার, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় শাহরুখ খান, মহেশ ভট্ট ছাড়াও এদিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তিন বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব। ছিলেন অস্কার জয়ী বিশিষ্ট জার্মান পরিচালক ভোলকার স্কলনডর্ফ, মার্কিন অভিনেত্রী অ্যান্ডি ম্যাকডোয়েল, স্লোভাকিয়ার প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক দুসান হানাক। ছিলেন এবারের উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান রাজ চক্রবর্তী-সহ টলিউডের একঝাঁক তারকা।
এদিনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে নাম না করে কেন্দ্রের ভাষানীতির এবং যেভাবে গোটা একটি ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে তার তীব্র বিরোধিতা করেন মহেশ ভট্ট। রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দর উদ্ধৃতি টেনে তিনি বলেন, মানুষকে নিজের ভাষায় কথা বলতে দিতে হবে। কোনও একটি ভাষা চাপিয়ে দেওয়া চলবে না। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি আমরা। পরিচালকদের এগিয়ে আসতে হবে, গল্পের মাধ্যমে বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরতে হবে সকলের কাছে।
মহেশ ভট্টের কথার প্রসঙ্গ টেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বলেন, মহেশ ভট্টের মতো প্রতিবাদী মানুষ কমে যাচ্ছেন। কিন্তু চুপ করে থাকলে চলবে না। বলেন, বাংলা কাউকে হিংসা করে না, বাংলা দুর্বল না, সকলকে নিয়ে মাথা উঁচু করে এগিয়ে যেতে চায় রাজ্য। ভালোবাসা দিয়েই জয় করা সম্ভব বলে এদিন তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সৌরভ-শাহরুখের প্রশংসা করেছেন এক বৃন্তে দুটি কুসুম বলে। উপস্থিত দেশি বিদেশি অতিথিদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দুর্গাপুজোয় বাংলায় আসার জন্য। বলেছেন সত্যজিৎ, মৃণাল, ঋত্বিক, তপন সিনহা, ঋতুপর্ণদের কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে বর্তমান এবং আগামী প্রজন্মকে।
এদিনের অনুষ্ঠানে কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী রাখী গুলজার। নিজেকে বাংলার মেয়ে বলে মনে করিয়ে বলেন, এই উৎসবের আন্তরিকতা ভোলার নয়। দেশের আর কোনও চলচ্চিত্র উৎসবে এরকম আন্তরিকতা ধরা পড়ে না। বাংলার মেয়ে হয়েও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেতে ২৫ বছর লেগে গেল বলে এদিন কিছুটা অভিমান ঝরে পড়ে তাঁর কথায়। শাহরুখের সঙ্গে এদিন তাঁর আবেগঘন মুহূর্ত নজর কাড়ে সবার। কিং খানকে দিয়ে বাঙলায় এদিন ‘ও আমার দেশের মাটি তোমার পরে ঠেকাই মাথা’ বলান রাখী।
এ শহরের আতিথেয়তার প্রশংসা করে শাহরুখ বলেন, কোনও চলচ্চিত্র উৎসব ছোট না, কিন্তু কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব অনন্য এবং সবথেকে আদরের। শিল্প সংস্কৃতি, সিনেমার শহর বিবিধতাকে মান্যতা দেয় বলেও এদিন দাবি করেন শাহরুখ। শহরের আতিথেয়তা এবং আন্তরিকতার প্রশংসা করেছে কিং খান।
সৌরভ তাঁর বক্তৃতায় ভারত, বাংলা এবং বিদেশের ছবি, বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালকদের কথা, বাংলা ছবির শতবর্ষের কথা এবং চলচ্চিত্র উৎসবের ইতিহাসের কিছু কথা তুলে ধরেন। ১৫ তারিখ উৎসবের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে শাবানা আজমি উপস্থিত থাকবেন বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন।

ধারাবাহিকভাবে পাশে থাকার জন্য The Bengal Story র পাঠকদের ধন্যবাদ। আমরা শুরু করেছি সাবস্ক্রিপশন অফার। নিয়মিত আমাদের সমস্ত খবর এসএমএস এবং ই-মেইল এর মাধ্যমে পাওয়ার জন্য দয়া করে সাবস্ক্রাইব করুন। আমরা যে ধরণের খবর করি, তা আরও ভালোভাবে করতে আপনাদের সাহায্য আমাদের উৎসাহিত করবে।

Login Subscribe