দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সদ্য স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তির জেরে এবার বড়সড় আর্থিক ছাড়পত্র পেতে চলেছে তেহরান। ওয়াশিংটন এবং কাতার যৌথভাবে একটি পরিকল্পনা তৈরি করছে, যার মাধ্যমে ইরানের আটকে থাকা প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের তহবিল মানবিক কারণে ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হতে পারে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সূত্রে খবর, নতুন শান্তি চুক্তির শর্ত মেনেই এই আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।
কেন আটকে ছিল এই বিপুল অর্থ?
দক্ষিণ কোরিয়ায় আটকে থাকা ইরানের তেল বিক্রির এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে কাতারে স্থানান্তর করা হয়েছিল। তৎকালীন বাইডেন প্রশাসন বন্দি বিনিময়ের অঙ্গ হিসেবে এই পদক্ষেপ নিলেও, ৭ অক্টোবরের পর থেকে পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যায়। ইজরায়েলের ওপর হামাসের আক্রমণের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে প্রবল অস্থিরতা তৈরি হলে এই তহবিলের ব্যবহার ফের আটকে দেয় আমেরিকা। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিতেই ফের টাকা ব্যবহারের পথ খুঁজছে দুই দেশ।
শর্তসাপেক্ষে মিলবে ছাড়পত্র
নতুন চুক্তির আওতায় ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি এবং আলোচনার জন্য এই অর্থ ধাপে ধাপে ছাড়ার কথা ভাবা হচ্ছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সরাসরি ইরানের হাতে তুলে দেওয়া হবে না। কাতারের মধ্যস্থতায় এই তহবিল ব্যবহার করে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশ মতো খাবার এবং ওষুধের মতো প্রয়োজনীয় মানবিক সামগ্রী কেনা হবে। মূলত আমেরিকার তৈরি পণ্য কেনার ক্ষেত্রেই এই অর্থ ব্যবহারের শর্ত রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: West Asia Conflict: যুদ্ধ থামাতে আমেরিকার সঙ্গে ইরানের শান্তি চুক্তির জল্পনা
কী বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট?
এই নয়া চুক্তি নিয়ে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্দরে, বিশেষ করে রিপাবলিকানদের একাংশের মধ্যে প্রবল বিতর্ক শুরু হলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পদক্ষেপের পক্ষে সুর চড়িয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরান যদি তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করে এবং পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের মতো পদক্ষেপে ভালো আচরণ দেখায়, তবেই তারা ধীরে ধীরে এই তহবিল ব্যবহার করতে পারবে।
কূটনৈতিক মহলের মতে, কাতারের এই মধ্যস্থতা সফল হলে আগামী দিনে বিশ্বের নানা প্রান্তে ইরানের আটকে থাকা আনুমানিক ১০০ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ব্যবহারের পথ প্রশস্ত হতে পারে। তবে পুরো বিষয়টিই নির্ভর করছে আগামী কয়েক মাসের আলোচনার অগ্রগতির ওপর।
আরও পড়ুন: ‘পাকিস্তানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই’, ইরান চুক্তির গোপনীয়তা নিয়ে মুখ খুললেন জেডি ভ্যান্স




