বাংলার সাংবাদিকতার ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। ২০ শে জুন, বৃহস্পতিবার সকালে প্রকাশিত হল না ঐতিহ্যবাহী দ্য স্টেটসম্যান এবং দৈনিক স্টেটসম্যান পত্রিকা। অভ্যন্তরীণ জটিলতার জেরে কাগজ ছাপা হয়নি বলে সূত্রের খবর।
কর্মী-কর্তৃপক্ষের মধ্যে জটিলতার জেরে বুধবার রাতেই ধর্মতলার দ্য স্টেটসম্যান অফিসে কাজ বন্ধ করে দেন অসাংবাদিক কর্মীদের একটি বড় অংশ। যার জেরে কাগজ সম্পূর্ণ তৈরি থাকা সত্ত্বেও তা ছেপে বের করা যায়নি। সূত্রের খবর, দ্য স্টেটসম্যান পত্রিকায় বেশ কয়েক বছর ধরে মালিকানা সংক্রান্ত সমস্যা চলছে। এর ফলে নানা সময় দ্য স্টেটসম্যানের সাংবাদিক ও অসাংবাদিক কর্মীদের বেতন নিয়েও সমস্যা হয়েছে। যদিও সম্প্রতি সেই বেতন সমস্যা অনেকটাই মিটেছিল বলে সূত্রের খবর।
জানা গিয়েছে, খুব সম্প্রতি সংস্থার পার্সোনেল বিভাগের এক আধিকারিককে সম্পাদকীয় দফতরের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে অসাংবাদিক আধিকারিক ও কর্মীদের ইউনিয়ন। এই নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যেই বুধবার মাঝ রাত পর্যন্ত সাংবাদিকরা দ্য স্টেটসম্যান অফিসে কাজ করেন এবং নিয়ম মাফিক সারাদিনের খবর প্রস্তুতও করেছিলেন। কিন্তু বেশি রাতে অসাংবাদিক কর্মীদের একটি বড় অংশ, যাঁরা সিস্টেম বিভাগে কাজ করেন, তাঁরা কাজ বন্ধ করে দেন। যার জেরে কাগজ আর ছাপা যায়নি। স্বভাবতই বৃহস্পতিবার সকালে বেরোয়নি ঐতিহ্যবাহী ইংরেজি দৈনিক দ্য স্টেটসম্যান এবং বাংলা দৈনিক স্টেটসম্যান।
আরও পড়ুন: টানা ১১ বছর ধরে বেতন বাড়েনি দেশের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি মুকেশ আম্বানীর
১৮৭৫ সালের ১৫ ই জানুয়ারি রবার্ট নাইটের হাত ধরে কলকাতা থেকে যাত্রা শুরু করে দ্য স্টেটসম্যান। তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনার পাশাপাশি ১৯১১ সালে কলকাতা থেকে দিল্লিতে ভারতের রাজধানী সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্রিটিশ সিদ্ধান্তেরও তীব্র সমালোচনা করে দ্য স্টেটসম্যান। পরবর্তীতে ব্রিটিশ সরকারের সেনসরশিপের খাঁড়াকে উপেক্ষা করে ভয় ডরহীন সাংবাদিকতার নজির স্থাপন করে দ্য স্টেটসম্যান। স্বাধীনতার পর কখনও ইন্দিরা গান্ধীর জারি করা জরুরি অবস্থা কিংবা সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ, নির্ভীক সাংবাদিকতার পথ থেকে সরানো যায়নি ঐতিহ্যবাহী পত্রিকাটিকে। ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময় হাত বদল হয় এই পত্রিকার। ব্রিটিশ কর্পোরেটের জায়গা নেয় কয়েকটি সংস্থার মিলিত কনসর্টিয়াম। ভারতীয় মালিকানায় দ্য স্টেটসম্যানের প্রথম সম্পাদক হন প্রাণ চোপড়া। ২০০৪ সালে বেরোয় দৈনিক স্টেটসম্যান নামে বাংলা সংবাদপত্র।