অসমে প্রকাশিত এনআরসি তালিকা ভুলে ভরা। তাতে ভয়ঙ্কর জেহাদি সহ নাম রয়েছে ৮০ লক্ষ বিদেশির। এনআরসি প্রক্রিয়া চলাকালীন হয়েছে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি। বিস্ফোরক অভিযোগ করে অসমে নাগরিকপঞ্জি প্রক্রিয়ার রি-ভেরিফিকেশনের দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল এনজিও অসম পাবলিক ওয়ার্কস বা এপিডব্লু।
এপিডব্লুর সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ঘটনায় দেশে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে। কারণ এই এনজিওর আবেদনের প্রেক্ষিতেই সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে অসমে ১৯৫২ সালের ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেন্সের আপডেটের কাজ শুরু হয়। এবার প্রক্রিয়া শেষের পর আবার নতুন করে করার আবেদন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এপিডব্লু সুপ্রিম কোর্টে ৪ জনের নাম করে তাদের জেহাদি হিসেবে দাবি করে অভিযোগ জানিয়েছে, অসম এনআরসির প্রক্রিয়াগত ত্রুটির সুযোগ নিয়েই ৪ জন ভারতের নাগরিকত্ব পেয়েছে।
আরও পড়ুন: সাবরীমালা পরবর্তী কেরলে স্থানীয় উপনির্বাচনে বড় জয় সিপিএমের, খাতাই খুলতে পারল না বিজেপি
সূত্রের খবর, গত বছর ২৫ নভেম্বর এই ৪ জনকে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তারা দিল্লিতে হামলা এবং অসমের গোয়ালপাড়ার রাস উৎসবে বিস্ফোরণের সন্ত্রাসবাদী ছকের সঙ্গে যুক্ত।
এনজিওটির দাবি, অসমের নলবাড়ি জেলার বরখেতরি বিধানসভা কেন্দ্র সহ আরও কয়েকটি জায়গায় ফাঁকা কৃষিজমিকে রাতারাতি পুরোদস্তুর গ্রাম বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এনআরসি কর্তৃপক্ষও এই চক্রান্তে জড়িত বলে দাবি তুলে এপিডব্লুর আরও দাবি, উত্তর অসমের সিপাঝাড় এলাকায় ১৮২ বিঘা কৃষিজমি গ্রামে রূপান্তরিত হয়েছে। এতে সমস্যা বাড়ছে ওই এলাকার আদি বাসিন্দাদের। বাড়ছে ক্ষোভের আগুন।
প্রক্রিয়াগত ত্রুটিই শুধু নয়, অসম পাবলিক ওয়ার্কসের তরফে এনআরসি প্রক্রিয়ায় বিরাট অর্থনৈতিক দুর্নীতিরও অভিযোগ করা হয়েছে। এপিডব্লুর কর্ণধার অভিজিত শর্মা অভিযোগ করছেন, ৩,৭০০ টি জেনারেটর সেট কেনার জন্য ৪.৭৬ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। কিন্তু একটি জেনারেটরও কেনা হয়নি বরং সবকটিই ভাড়া নিয়ে কাজ চালানো হয়েছিল, দাবি তাঁর। অর্থনৈতিক দুর্নীতির পর্দাফাঁস করতে সিবিআই, এনআইএ কিংবা ইডিকে দিয়ে তদন্ত করানোরও দাবি করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটি।
আরও পড়ুন: শুধু প্রধানমন্ত্রীই নয়, আমি অ্যাক্সিডেন্টাল অর্থমন্ত্রীও ছিলাম, বিরোধীদের জবাব মনমোহন সিংহের
২০১৯ সালের ৩১ অগাস্ট সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে প্রকাশিত হয় এনআরসির তালিকা। তাতে ৩ কোটি ৩০ লক্ষ আবেদনকারীর মধ্যে ১৯ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়ে। তবে নাম বাদ যাওয়া ব্যক্তিদের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে আবেদন জানানোর প্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি। এরমধ্যেই গতবছর নভেম্বরে শীর্ষ আদালত অসম এনআরসির কোঅর্ডিনেটর পদ থেকে প্রতীক হাজেলাকে বদলি করে দেয়। পরে তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদে আসেন হিতেশ দেবশর্মা।
