Gold ₹1,44,850/10g
Silver ₹242.50/g
Petrol ₹113.51/L
Diesel ₹99.82/L
Kolkata 30°C
18 June 2026

৪০ বার ব্যর্থতার পর UPSC পাশ! IRS অফিসার ছিন্দোয়ারার অওধকিশোরের হাল না ছাড়ার গান

কেন এতদিন সাফল্যের জন্য অপেক্ষা করতে হল? কোথায় ভুল ছিল?

৪০ বার ব্যর্থতার পর UPSC পাশ! IRS অফিসার ছিন্দোয়ারার অওধকিশোরের হাল না ছাড়ার গান

“Don’t read success stories, you will only get message. Read failure stories, you will get some ideas to get success.”

মন্তব্যটি এপিজে আব্দুল কালামের। হ্যাঁ, আইআরএস অফিসার অবোধ কিশোর পাওয়ারের কাহিনি যতটা না সাফল্যের তার চেয়ে অনেক বেশি বারবার ব্যর্থতা ছুঁয়েও কীভাবে সফল হওয়ার অদম্য ইচ্ছে বজায় রাখতে হয়। লক্ষ্যে না পৌঁছনো পর্যন্ত কীভাবে লাগাতার পরিশ্রম করে যেতে হয়, সেই রূপকথার।

জীবনে ৪০ টি সরকারি চাকরির পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন মধ্যপ্রদেশের ছিন্দোয়ারার বাসিন্দা অওধকিশোর পাওয়ার। যার মধ্যে ইউপিএসসি পরীক্ষাতে প্রথম চারবার ব্যর্থ হয়েছেন। কিন্তু লক্ষ্য পূরণ করেই ছেড়েছেন এই যুবক। আজ তিনি ইন্ডিয়ান রেভেনিউ সার্ভিস (IRS) অফিসার। আয়কর দফতরের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার হিসেবে ভোপালে কর্মরত।

আরও পড়ুন: আর্দ্র ও ঠান্ডা আবহাওয়ায় করোনাভাইরাস ড্রপলেটের বিস্তার ও সক্রিয়তা বেশি, সমীক্ষা তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের

হিন্দি মাধ্যম ছাত্রের নাছোড়বান্দা লড়াইয়ের কাহিনি কেন অনন্য?

আদতে ইঞ্জিনিয়ার অওধকিশোর কাজ করতেন গোদরেজ কোম্পানিতে। বেশ মোটা বেতনের চাকরি হলেও তিনি ঠিক খুশি ছিলেন না। স্বপ্ন ছিল ইউপিএসসি ক্র‍্যাক করে বড় আমলা হওয়ার, দেশের সেবা করার।

একদিন অফিসে নাইট ডিউটি করছিলেন অওধকিশোর। কাজের মধ্যে খানিক অবসর মেলায় মোবাইল ঘাঁটাঘাঁটি করছিলেন। হঠাৎ চোখ আটকে যায় একটি খবরে। এক রিকশা চালকের পুত্র কীভাবে UPSC পরীক্ষার কঠিন হার্ডল টপকে আমলা হয়েছেন তারই খবর ছিল। খবরটি তাঁকে এতটাই অনুপ্রেরণা জোগায় যে রাতারাতি চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন অওধকিশোর। নিজেকে প্রশ্ন করেন, একজন গরিব রিকশা চালকের ছেলে যদি সমস্ত প্রতিকূলতা জয় করে ইউপিএসসি পাশ করতে পারেন, তিনি কেন পারবেন না?

আরও পড়ুন: জরুরি পরিস্থিতিতে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপসহ সোশ্যাল মিডিয়া কীভাবে বন্ধ করা যাবে, খোঁজ শুরু করল কেন্দ্র

যেমন ভাবা, তেমন কাজ। চাকরি ছেড়ে জমানো কিছু টাকা সম্বল করে মধ্যপ্রদেশ থেকে দিল্লি পাড়ি দেন অওধকিশোর। লক্ষ্য ইউপিএসসির নিরবিচ্ছিন্ন প্রস্তুতি নেওয়া। কিন্তু শুধু স্বপ্ন থাকলেই তো চলে না, দরকার তা পূরণ করার মতো পরিশ্রমের ক্ষমতা ও জেদ। কিন্তু ইউপিএসসির ইংরেজি হরফে মোটা মোটা স্টাডি মেটেরিয়াল দেখে প্রথম জোর ধাক্কা খান আগাগোড়া হিন্দি মিডিয়ামের পড়ুয়া অওধকিশোর। সব ছেড়ে দিল্লি এসেছি স্বপ্ন পূরণ করতে। এভাবে হার মানব? পালিয়ে যাব? নিজেকে প্রশ্ন করেন অওধকিশোর। তারপর আবার আদাজল খেয়ে পড়াশোনা শুরু করেন।

ইউপিএসসি ছাড়াও ব্যাঙ্কিং, পিএসসি, বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষা দিতে থাকেন। কিন্তু একটার পর একটা পরীক্ষায় ব্যর্থ। প্রতিবার ভাবতেন এবার ঠিক সফল হব। কিন্তু না… এভাবে ৪০ টি সরকারি পরীক্ষা দিয়ে একটিতেও পাশ করতে পারেননি অওধকিশোর, তার মধ্যে চারবার দিয়েছেন ইউপিএসসি পরীক্ষা। সবকটায় পেল করে আত্মবিশ্বাস টাল খাচ্ছিল বটে, কিন্তু জেদ বেড়ে গিয়েছিল কয়েকগুণ। ফের শুরু করেন প্রস্তুতি। অবশেষে ২০১৫ সালে সাফল্যের স্বাদ পান, সেটাও আবার ইউপিএসসিতে। অওধকিশোর পাওয়ারের সর্বভারতীয় র‍্যাঙ্ক আসে ৬৫৭।

কেন এতদিন সাফল্যের জন্য অপেক্ষা করতে হল? কোথায় ভুল ছিল? অওধকিশোর বলেন, প্রতিবারের ব্যর্থতাই তো শিখিয়েছে আগেরবার ভুল পথে যাচ্ছিলাম। আর বারবার ব্যর্থ হলেও হতাশা গ্রাস করেনি আমাকে। কারণ আমাকে ইউপিএসসি পাশ করতেই হত। স্বপ্ন অধরা রেখে ফিরে যাওয়ার কোনও রাস্তা ছিল না।

কিন্তু কী কী ভুল করেছিলেন বলে মনে করেন, যার জন্য এতদিন পরীক্ষায় সফল হননি? অওধকিশোর বলেন, ফোকাস আর কঠোর পরিশ্রম করলেও প্রথম কয়েকটি প্রচেষ্টাতে কিছু ভুল করেছিলাম। আমি যে বিষয়ে আয়ত্ত করেছি তার পরিবর্তে ইউপিএসসিতে ঐচ্ছিক অন্য সাবজেক্ট নিয়েছিলাম।

আরেকটি ভুল ছিল চতুর্থবার ইউপিএসসি দেওয়া পর্যন্ত কোনও কোচিং সেন্টারে যোগ দিইনি। আমার মতো ছাত্র, যাঁদের সঠিক গাইডেন্স নেই শুধু নিজে পড়াশোনা করে ইউপিএসসির মতো কঠিন পরীক্ষায় পাশ করা শক্ত বলে মনে হয় আমার। তাছাড়া হিন্দি মিডিয়ামের ছাত্র হওয়ায় অওধকিশোরকে ইংরেজি নিয়েও বিশেষ খাটতে হয়েছে। এমনি পড়ার পাশাপাশি প্রতিদিন নিয়ম করে ইংরেজি ভাষা অনুশীলন করেছেন।

এখন আইআরএস অফিসার অওধকিশোর ও তাঁর কয়েকজন ব্যাচমেট মিলে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার্থীদের গাইডেন্সের জন্য একটি ফেসবুক পেজ চালান। অওধকিশোরের কথায়, আমি পারলে অন্যরাও পারবেন। ব্যর্থতার মুখোমুখি হওয়ার সাহস দরকার। সাফল্য আসবেই।

Track Latest News Live on TheBengalStory.com and get news updates from West Bengal and around the world.

Editor's choice