‘বাবর কী করেছিলেন, মন্দির ছিল না মসজিদ, এই ইতিহাস চর্চা আদালতের কাজ নয়’, অযোধ্যা মামলায় মধ্যস্থতা চেয়ে বলল সুপ্রিম কোর্ট

অযোধ্যা-বাবরি মসজিদ জমি বিতর্ক মামলায় মধ্যস্থতা নিয়ে রায় স্থগিত রাখল সুপ্রিম কোর্ট। আগামী শুনানিতে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করা হবে কি না সে ব্যাপারেও রায়দান স্থগিত রাখল দেশের শীর্ষ আদালত।
বুধবার প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চে শুরু হয় এই মামলার শুনানি। সুপ্রিম কোর্ট জানায়, রাম জন্মভূমি- বাবরি মসজিদ জমি বিতর্ক নিছক জমি ইস্যু নয়। পিটিশনকারীদের উদ্দেশে বিচারপতি এস এ বোবদের বার্তা, ইতিহাস সংশোধন করা যায় না। বাবর কী করেছিলেন, কে ওই সময় রাজা ছিলেন, মন্দির ছিল না কি মসজিদ, তা বিবেচ্য নয়। মধ্যস্থতার মাধ্যমে জমি বিতর্ক মামলা দ্রুত মিটিয়ে নেওয়ার কথা বলে শীর্ষ আদালত। যদিও হিন্দু মহাসভার দাবি, মধ্যস্থতায় রাজি নয় তাঁরা। হিন্দুপক্ষের যুক্তি, তাঁরা নিশ্চিত, অযোধ্যার ওই স্থান রামের জন্মভূমি। তাই মধ্যস্থতার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। যদিও মুসলিম পিটিশনকারীদের পক্ষে আইনজীবী রাজীব ধাওয়ান বলেন, মধ্যস্থতায় আসতে তাঁরা রাজি। কিন্তু হিন্দু পক্ষের মত, রাম জন্মভূমিতে মন্দির তৈরির প্রশ্নে কোনও আলোচনাই প্রাসঙ্গিক নয়। তাঁদের বক্তব্য, মসজিদ তৈরির জন্য অন্য কোনও জায়গা নির্ধারণ করা হোক এবং তাঁরাই চাঁদা তুলে সহায়তা করবেন।
যদিও শেষ পর্যন্ত মধ্যস্থতায় রাজি না হওয়ায় এদিন রায় স্থগিত রাখে সুপ্রিম কোর্ট।
গত ২৬ শে ফেব্রুয়ারি এই মামলার দু’পক্ষের মতভেদ হয়েছিল। হিন্দু ও মুসলিম, দু’পক্ষের মধ্যে জমি বিতর্কের নথির অনুবাদ নিয়ে মতানৈক্য দেখা যায়। সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শের পরও কোনও পক্ষই সেবার মধ্যস্থতায় আসতে পারেনি। অযোধ্যা-বাবরি মসজিদ জমি মামলায় উত্তর প্রদেশ সরকার ৩৮ হাজার পৃষ্ঠার রিপোর্ট তৈরি করে। রিপোর্টটি অনুবাদ করা হয়েছে ইংরেজি, হিন্দি, সংস্কৃত, উর্দু এবং গুরুমুখি ভাষায়। উত্তর প্রদেশ সরকারের দেওয়া এই রিপোর্টের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন মুসলিম পক্ষের আইনজীবী। এরপর ৫ ই মার্চ শুনানির পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বুধবারও এই মামলার রায় স্থগিত রাখল শীর্ষ আদালত।
প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের ৩০ শে সেপ্টেম্বর এলাহাবাদ হাইকোর্ট বিতর্কিত ২.৭৭ একর জমিকে তিনভাগে ভাগ করে নির্মোহী আখাড়া, সুন্নি সেন্ট্রাল বোর্ড ও রামলাল্লা বিরাজমানকে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। যদিও এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ১৪ টি পিটিশন দায়ের হয় সুপ্রিম কোর্টে।

Comments are closed.