দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফেরানোর কূটনৈতিক তৎপরতার ইতিবাচক প্রভাব পড়ল বিশ্ব অর্থনীতিতে। আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির জল্পনা জোরালো হতেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত খনিজ তেলের (Crude Oil) দাম অনেকটাই স্থিতিশীল হয়েছে। বুধবার বিশ্ব বাজারে তেলের মূল্যের এই সাম্য লক্ষ্য করা গিয়েছে, যা গত কয়েক মাসের চরম অস্থিরতার পর বড় স্বস্তি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
হরমুজ প্রণালী খোলার সম্ভাবনা ও তেলের বাজার আন্তর্জাতিক লগ্নি সংস্থা এবং বিনিয়োগকারীরা এই মুহূর্তে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যস্থতার দিকে কড়া নজর রাখছেন। লোহিত সাগর এবং হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলির ওপর হামলার জেরে বিশ্ব বাণিজ্যে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, তা কাটার ইঙ্গিত মিলছে। বাজার विशेषज्ञों মতে, যদি ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে এই চুক্তি চূড়ান্ত রূপ পায় এবং হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি নিরাপদ ঘোষণা করা হয়, তবে খনিজ তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে। আর এই আশাতেই তেলের মূল্যের উর্ধ্বমুখী গ্রাফে লাগাম পড়েছে।
স্থিতিশীল ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই ক্রুড বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড (Brent Crude) এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) উভয়ের দামই একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে ওঠানামা করেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের প্রতি ব্যারেলের মূল্য সামান্য পরিবর্তিত হয়ে একটি স্থিতিশীল অবস্থানে থিতু হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখনই বড় কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। তারা ইরান পরিস্থিতি এবং মার্কিন প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ খতিয়ে দেখছেন। ওপেকের (OPEC) পক্ষ থেকেও বাজারের এই স্থিতিশীলতাকে স্বাগত জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: অবিশ্বাস্য পোস্ট অফিসের স্কিমঃ এবার বিনিয়োগ করুন ১০ হাজার, পান ১৬ লক্ষ
বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বস্তির ইঙ্গিত পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত কয়েক মাসে তেলের দাম যেভাবে বাড়ছিল, তাতে ভারতসহ একাধিক আমদানিকারী দেশের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ছিল। জ্বালানির দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যে। ফলে এই সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি কার্যকর হলে শুধু তেলের বাজার নয়, সামগ্রিকভাবে বিশ্ব মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও তা বড় ভূমিকা নেবে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে চুক্তির চূড়ান্ত শর্তাবলী সামনে না আসা পর্যন্ত এক ধরণের অনিশ্চয়তাও বজায় থাকছে বাজারে।