দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: দুবাই, আবু ধাবি বা দোহার মতো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলির একচেটিয়া ব্যবসায় এবার বড়সড় ভাগ বসাতে চলেছে ভারত। দীর্ঘদিনের কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে দিল্লি, মুম্বই এবং বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরকে ‘গ্লোবাল ট্রানজিট হাব’ বা আন্তর্জাতিক সংযোগকারী কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।
উপসাগরীয় দেশগুলির বিকল্প হিসেবে উঠে আসার সুযোগ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতের প্রায় ৮৫ শতাংশ কানেক্টিং আন্তর্জাতিক যাত্রী দুবাই, আবু ধাবি অথবা সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দরের উপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে উত্তর আমেরিকা বা ইউরোপগামী যাত্রীদের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। কিন্তু সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্য এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনার জেরে উড়ান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই ভারতের প্রধান বিমানবন্দরগুলিকে আন্তর্জাতিক হাব হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে সরকার। এর ফলে বিদেশি যাত্রীদের পাশাপাশি ভারতীয় যাত্রীরাও দেশে বসেই সরাসরি আন্তর্জাতিক কানেক্টিং উড়ানের সুবিধা পাবেন।
বারাণসী থেকে শুরু হচ্ছে পাইলট প্রজেক্ট এই নতুন নীতির আওতায় বিমানবন্দরগুলির ইমিগ্রেশন এবং কার্গো স্ক্রিনিং বা পণ্য পরীক্ষার নিয়মকানুন অনেকটাই শিথিল করা হয়েছে। সরকারি সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহ থেকেই এয়ার ইন্ডিয়া (Air India) তাদের নতুন হাব-অ্যান্ড-স্পোক মডেল চালু করতে চলেছে। প্রথম পর্যায়ে বারাণসী থেকে লন্ডন, ফ্রাঙ্কফুর্ট, মিলান এবং সিঙ্গাপুর-সহ ১৭টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যের যাত্রীরা এই সুবিধা পাবেন। যাত্রীদের বারাণসীতেই ইমিগ্রেশনের কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে। এরপর দিল্লিতে পৌঁছে তাঁদের আর দ্বিতীয়বার কাস্টমস বা ইমিগ্রেশনের লাইনে দাঁড়াতে হবে না। এমনকি কানেক্টিং উড়ানের জন্য ব্যাগও সরাসরি বিমানে স্থানান্তরিত হয়ে যাবে।
আরও পড়ুন: ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য সুখবরঃ লঞ্চ হল বন্ধন ব্যাঙ্ক শৌর্য স্যালারি অ্যাকাউন্ট
যাত্রীদের সময় বাঁচাতে পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর একটি আন্তর্জাতিক ট্রানজিট হাবের অন্যতম প্রধান শর্ত হল কানেক্টিং উড়ানের জন্য অপেক্ষার সময় কমানো। দুবাই বা ইস্তানবুলের মতো বিমানবন্দরে ট্রানজিট সময় মাত্র ৬০ মিনিটের কাছাকাছি থাকে, যেখানে দিল্লিতে এতদিন দুই ঘণ্টা বা তার বেশি সময় লাগত। এই সমস্যা সমাধানে দিল্লি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এয়ারসাইড বাসের মাধ্যমে তিনটি টার্মিনালের মধ্যে সরাসরি যাত্রী স্থানান্তরের ব্যবস্থা করছে, যার ফলে এই সময় কমে মাত্র ২০ মিনিটে দাঁড়াবে। পাশাপাশি, আগামী ৩০ মাসের মধ্যে দেশের প্রথম ‘এয়ার ট্রেন’ চালু করার পরিকল্পনাও রয়েছে, যা সরাসরি টার্মিনালগুলিকে কার্গো সুবিধার সঙ্গে যুক্ত করবে। সব ঠিক থাকলে, দিল্লি থেকে সফল হওয়ার পর খুব শীঘ্রই মুম্বই এবং বেঙ্গালুরুতেও এই মডেল সম্প্রসারিত করা হবে।




