দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: ভারতের বিমান পরিবহণ মানচিত্রে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হল। অবশেষে বাণিজ্যিকভাবে চালু হয়ে গেল দিল্লির অদূরে উত্তরপ্রদেশের নয়ডায় তৈরি হওয়া জেওয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (Noida International Airport)। সোমবার এই নতুন বিমানবন্দর থেকে প্রথম বাণিজ্যিক উড়ানটি সফলভাবে টেক-অফ করেছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ এবং আধুনিক এই বিমানবন্দর চালুর ফলে দিল্লি-এনসিআর (Delhi-NCR) এলাকার বিমান পরিবহণ পরিকাঠামোয় এক আমূল বদল আসতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রথম দিনে সফল উড়ান, দিল্লি বিমানবন্দরের চাপ কমবে
জেওয়ারের এই নতুন বিমানবন্দরটি মূলত দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (IGI) ওপর ক্রমবর্ধমান যাত্রীদের চাপ কমাতে সাহায্য করবে। প্রথম পর্যায় সম্পন্ন হওয়ার পর সোমবার এখান থেকে প্রথম বিমানটি যাত্রা শুরু করে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্বোধনী দিনে সমস্ত পরিকাঠামো ও নেভিগেশনাল সিস্টেম অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কাজ করেছে। আগামী দিনে এই বিমানবন্দর থেকে দেশীয় উড়ানের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্তরের একাধিক উড়ানও পরিচালিত হবে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী জনধন অ্যাকাউন্ট থাকলে আপনিও পেয়ে যেতে পারেন ১ লক্ষের বেশি টাকা, জেনে নিন কীভাবে
বার্ষিক ৭ কোটি যাত্রীর মেগা লক্ষ্যমাত্রা
উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকারের এই ড্রিম প্রজেক্টটি অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার সঙ্গে তৈরি করা হয়েছে। বিমানবন্দরটি সম্পূর্ণভাবে তৈরি হয়ে গেলে এখান থেকে বছরে প্রায় ৭ কোটি যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন বলে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ সরকারের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, চার ধাপে এই বিমানবন্দরের সম্পূর্ণ সম্প্রসারণ করা হবে। এটি কেবল উত্তরপ্রদেশের নয়, সমগ্র উত্তর ভারতের অর্থনৈতিক ও শিল্পোন্নয়নে এক নতুন যুগের সূচনা করবে এবং নয়ডা-গ্রেটার নয়ডা অঞ্চলে বিপুল বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত করবে।
পরিবেশবান্ধব ও ডিজিটাল প্রযুক্তির মেলবন্ধন
নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটিকে সম্পূর্ণ ‘গ্রিনফিল্ড’ প্রজেক্ট হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি সর্বাধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে যাত্রীরা দ্রুত এবং বাধাহীনভাবে পেপারলেস চেকিং ও বোর্ডিংয়ের সুবিধা পান। এর পাশাপাশি জেওয়ার বিমানবন্দরকে সড়ক ও এক্সপ্রেসওয়ের মাধ্যমে দিল্লি, আগ্রা এবং মথুরার মতো প্রধান শহরগুলির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে মেট্রো এবং দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্কও এই বিমানবন্দরের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের।




