দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: নব্বইয়ের দশকের অন্যতম আইকনিক বলিউড ছবি ‘দিল তো পাগল হ্যায়’। কিন্তু এই ছবিতে ‘নিশা’ চরিত্রের জন্য যশ চোপড়ার প্রথম পছন্দ করিশমা কাপুর ছিলেন না। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী স্বয়ং। তিনি জানিয়েছেন, মাধুরী দীক্ষিতের উপস্থিতির কারণে সেই সময় বলিউডের একাধিক প্রথম সারির অভিনেত্রী এই ছবির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
কেন ভয় পেয়েছিলেন নায়িকারা?
করিশমা কাপুর জানিয়েছেন যে, সেই সময় মাধুরী দীক্ষিত ছিলেন বলিউডের অপ্রতিদ্বন্দ্বী সুপারস্টার। তাঁর মতো একজন দুর্দান্ত নৃত্যশিল্পীর সঙ্গে একই ফ্রেমে নাচতে অনেকেই রীতিমতো ভয় পেতেন। অন্য অভিনেত্রীদের মনে এই আশঙ্কা কাজ করেছিল যে, মাধুরীর ক্যারিশমার সামনে তাঁদের উপস্থিতি ম্লান হয়ে যাবে। ঠিক এই কারণেই তাঁরা ‘দিল তো পাগল হ্যায়’ ছবিতে সহ-অভিনেত্রীর চরিত্রে অভিনয় করতে একেবারেই রাজি হননি।
মায়ের পরামর্শে মত বদলান করিশমা
প্রাথমিকভাবে করিশমা নিজেও এই চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মাধুরীর সঙ্গে সমানে সমানে নাচের প্রতিযোগিতায় নামার সাহস প্রথমে তাঁরও ছিল না। তবে এই কঠিন পরিস্থিতিতে তাঁর মা ববিতা কাপুর তাঁকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করেন। ববিতা করিশমাকে বুঝিয়েছিলেন যে, এটি একটি বড় সুযোগ এবং ভয় না পেয়ে নিজের সেরাটুকু উজাড় করে দিলে সাফল্য আসতে বাধ্য। মায়ের এই কথায় ভরসা রেখেই শেষ পর্যন্ত চ্যালেঞ্জটি গ্রহণ করেন তিনি।
ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড ও বিপুল সাফল্য
যশ চোপড়ার পরিচালনায় ১৯৯৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবিটি বক্স অফিসে আক্ষরিক অর্থেই ঝড় তোলে। শাহরুখ খান, মাধুরী দীক্ষিত এবং করিশমা কাপুরের ত্রিকোণ প্রেমের এই কালজয়ী গল্প আজও দর্শকদের মনে গেঁথে রয়েছে। ছবির ‘ডান্স অফ এনভি’ নাচের দৃশ্যটি বলিউডের ইতিহাসে অন্যতম সেরা হিসেবে বিবেচিত হয়। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, যে চরিত্রটি করতে বলিউডের একাধিক অভিনেত্রী ভয় পেয়েছিলেন, সেই ‘নিশা’ চরিত্রে অসামান্য অভিনয়ের জন্যই করিশমা কাপুর সেরা পার্শ্ব-অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেছিলেন।