বিশ্বজুড়ে গাড়ি ব্যবসায় মন্দা। পাশাপাশি ট্রাম্প সরকারের নীতির ফাঁসে ক্রমেই বাড়ছে উৎপাদন খরচ। এই পরিস্থিতিতে এবার ব্যাপক ছাঁটাইয়ের রাস্তায় হাঁটতে চলেছে বিশ্ববিখ্যাত গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা ফোর্ড। অগস্টের মধ্যে সংস্থা ছাঁটাই করতে চলেছে ৭০০০ কর্মীকে। সোমবার এমন খবরই জানাল মার্কিন সংবাদপত্র নিউইয়র্ক টাইমস।
আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকেই ফোর্ড ছাঁটাই করবে ৮০০ কর্মীকে। তারপর হাত দেওয়া হবে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ফোর্ডের বিভিন্ন দফতরে। নিউইয়র্ক টাইমস সূত্রে খবর, সারা বিশ্বে মোট ৭০০০ কর্মীকে ছেঁটে ফেলা হবে, যা ফোর্ডের মোট কর্মী সংখ্যার ১০ শতাংশ। এর ফলে সংস্থার ৬০০ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে বলে জানাচ্ছেন ফোর্ড সিইও জিম হ্যাকেট। পুনর্গঠন প্রক্রিয়া অগাস্টের মধ্যেই শেষ হবে বলে আশাবাদী হ্যাকেট। ফোর্ড সিইওর দাবি, বিশ্বজুড়ে সেডান গাড়ির বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে কমছে। তৈরি হচ্ছে চালক বিহীন গাড়ি এবং ইলেকট্রিক গাড়ির নতুন বাজার। এই পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র সেডান গাড়ি তৈরিতেই আটকে থাকলে চলবে না বলে মনে করছে ফোর্ড। তাই আরও বেশি করে আধুনিক পরিকাঠামো প্রয়োজন। যেখানে কর্মী কম থাকলেও, উৎপাদনের পরিমাণ বাড়বে বহুগুণ। এই বিষয়ে ভক্সওয়াগনের সঙ্গে গাটছড়া বেঁধে পিকআপ ট্রাক এবং ডেলিভারি ভ্যান তৈরি করবে ফোর্ড। চালক বিহীন গাড়ির ক্ষেত্রেও দুই সংস্থা একসঙ্গে কাজ করতে পারে বলে জানাচ্ছে মার্কিন সংবাদপত্রটি।
সম্প্রতি ইউরোপ, দক্ষিণ আমেরিকা এবং এশিয়ায় লক্ষ্যণীয়ভাবে কমে গিয়েছে গাড়ি বিক্রি। যা ভয়ঙ্কর প্রভাব ফেলেছে ফোর্ডের ব্যবসায়। এ বছরের প্রথম ত্রৈরাশিকে ফোর্ডের আয় হয়েছে ১.১ বিলিয়ন ডলার। যা গতবছরের প্রথম তিন মাসের আয়ের তুলনায় ৩৪ শতাংশ কম। পাশাপাশি ট্রাম্প সরকার স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির উপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে বলে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে প্রকাশ। সরকারি নীতির ফলে ফোর্ডের অন্তত ১ বিলিয়ন ডলার খরচ বেড়েছে।
আরও পড়ুন: আরতি সাহাকে ডুডলে শ্রদ্ধা গুগলের, ইংলিশ চ্যানেল পেরনো প্রথম এশিয় মহিলা সাঁতারুকে মনে রেখেছে বাঙালি?
দ্রুত বদল আসছে গাড়ির বাজারে। চিরাচরিত পেট্রোল বা ডিজেল গাড়িকে কড়া প্রতিযোগিতার মুখে ফেলে দিচ্ছে ইলেকট্রিক কার। এছাড়াও যুব সমাজের মধ্যে চাহিদা বাড়ছে এসইউভির। তাই এবার এই দিকে নজর দিতে চায় ফোর্ড। শুধুমাত্র ফোর্ডই নয়, আমেরিকার আর এক বিখ্যাত গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থা জেনারেল মোটরসও একই সমস্যায় ভুগছে। খরচ কমিয়ে লাভের মুখ দেখতে সংস্থাটি ১৪ হাজারেরও বেশি কর্মীকে ছাঁটাই করতে পারে বলে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে প্রকাশ। জিএম আমেরিকায় ৪ টি এবং কানাডায় একটি গাড়ির কারখানা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। রাতারাতি বেকার হয়ে গিয়েছেন সেখানকার কর্মীরা।
বিশ্বজুড়ে গাড়ি ব্যবসায় মন্দা নাকি প্রযুক্তিগত উন্নতি, কর্মী ছাঁটাইয়ের নেপথ্যে কোন কারণ, তা সঠিক বোঝা না গেলেও, বিপুল কর্মী ছাঁটাইয়ের খবরের পর আশঙ্কায় দিন গুনছেন ফোর্ডের কর্মীরা।