অভূতপূর্ব সঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়ে বাংলা। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আমপান ধ্বংস করে দিয়ে গিয়েছে অন্তত ৪ থেকে ৫ টি জেলা। মৃত্যু হয়েছে ৭২ জনের। কেবলমাত্র কলকাতায় ১৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। মৃতদের পরিবারকে আড়াই লক্ষ টাকা করে অর্থ সাহায্য করা হবে। এছাড়া মানুষের বাড়ি ঘর ভেঙেছে, বিঘার পর বিঘার ফসল নষ্ট হয়েছে, বাঁধ ভেঙেছে, শেষ হয়ে গিয়েছে অসংখ্য মানুষের রুজি রোজগার। ত্রাণ ও মেরামতির কাজ শুরু করে দিতে রাজ্য প্রাথমিকভাবে ১ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল তৈরি করেছে। টাস্কফোর্সের বৈঠকের পর জানালেন মমতা ব্যানার্জি। সাধারণ মানুষের কাছে আহ্বান জানালেন সহায়তার।

অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আমপান যা ধ্বংস চালিয়েছে, তা আগে কখনও দেখিনি। প্রধানমন্ত্রীকে বলব আপনি নিজে ঘুরে দেখে যান কী তাণ্ডব চলেছে। বলেন মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার আবহাওয়া ভালো থাকলে উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা বিশেষ করে সুন্দরবন অঞ্চল পরিদর্শন করতে পারেন বলেও জানিয়েছেন মমতা। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিকে রাজ্য সরকার একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। প্রতিটি টাকা খরচের ক্ষেত্রে বিবেচনা করে নিতে হবে, অপ্রয়োজনে টাকা খরচ করা যাবে না। মমতা ব্যানার্জির কথায়, এখন ১ টাকার দাম আমার কাছে ১ হাজার টাকার চেয়েও বেশি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, অমিত শাহ তাঁকে ফোন করেছিলেন। রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়েছে। মমতা বলেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁকে সমস্ত সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

আমপানের তাণ্ডব এতটাই ব্যাপক যে এখনও এ সম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করা যায়নি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ডিটেল রিপোর্ট আসতে আরও সময় লাগবে। তবে প্রাথমিক রিপোর্ট যা পেয়েছি তা ভয়ঙ্কর। তিনি বলেন, এখন অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ত্রাণ ও মেরামতির কাজ শুরু করে দিতে হবে। তাই কী কী ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা জানতে ৫ টি বিভাগকে একসঙ্গে সমীক্ষা করে এক সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কৃষি দফতরের সঙ্গে পঞ্চায়েত, ফিশারিজ, অ্যানিম্যাল হাসবেন্ড্রি, হর্টিকালচার, খাদ্য দফতর ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দফতর একসঙ্গে মিলে ব্লকে ব্লকে সার্ভে করবে।

এদিন রাজ্যের সিনিয়র মন্ত্রীদের বিভিন্ন জেলার দায়িত্ব ভাগ করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন বাস পরিবহণকে স্বাভাবিক করার কথা বলেন মমতা। পাশাপাশি বেসরকারি বাস মালিকদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর আহ্বান, জেদাজেদি না করে বিপদের সময় পাশে দাঁড়ান। তেলের দাম যখন কমে যায়, তখন আপনাদের ভাড়া কমানোর কথা বলি না। তাই সামাজিক সঙ্কটের সময় বাস চালু করুন।

ধারাবাহিকভাবে পাশে থাকার জন্য The Bengal Story র পাঠকদের ধন্যবাদ। আমরা যে ধরনের খবর করি, তা আরও ভালোভাবে করতে আপনাদের সাহায্য আমাদের উৎসাহিত করবে।

Login Support us