দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: লখনউয়ের সাম্প্রতিক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর নড়েচড়ে বসল যোগী সরকার। রাজ্যের সমস্ত কোচিং সেন্টার এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বেসমেন্টের ব্যবহার নিয়ে কড়া নির্দেশিকা জারি করল স্থানীয় প্রশাসন। জননিরাপত্তার স্বার্থে এখন থেকে বেসমেন্টে কোনো ধরনের পঠনপাঠন বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালানো যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কেন নেওয়া হল এই কড়া পদক্ষেপ সম্প্রতি লখনউয়ের একটি কোচিং সেন্টারের বেসমেন্টে বিধ্বংসী আগুন লাগার ঘটনায় কয়েক জন শিক্ষার্থী আটকা পড়ার উপক্রম হয়েছিল। যদিও বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে, তবে এই ঘটনা প্রশাসনের গাফিলতিকে আবারও প্রকাশ্যে এনেছে। তদন্তে দেখা গেছে, বেশিরভাগ বেসমেন্টেই অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল এবং জরুরি অবস্থায় বেরিয়ে আসার পথ পর্যাপ্ত নয়। এই ঝুঁকির কথা মাথায় রেখেই নতুন এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে।
নির্দেশনায় যা বলা হয়েছে লখনউ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (LDA) এবং দমকল বিভাগের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বেসমেন্টগুলোকে কেবল পার্কিং বা স্টোরেজের জন্য ব্যবহার করা যাবে। শিক্ষা বা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত বেসমেন্টগুলোতে অবিলম্বে সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। নির্দেশ না মানলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সমস্ত বহুতল বাণিজ্যিক ভবনের অগ্নিনির্বাপক লাইসেন্স নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর ৭৭ তম জন্মজয়ন্তী, শ্রদ্ধা মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির
শোক ও উদ্বেগের বাতাবরণ এই মর্মান্তিক ঘটনার পর অভিভাবক মহলে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। শহরের ছোট ছোট জায়গায় গাদাগাদি করে গড়ে ওঠা কোচিং সেন্টারগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। প্রশাসন জানিয়েছে, শুধু লখনউ নয়, গোটা উত্তরপ্রদেশ জুড়ে এই অডিট চালানো হবে যাতে ভবিষ্যতে কোনো বড় দুর্ঘটনা না ঘটে। লখনউয়ের এই নতুন নীতি এখন অন্য রাজ্যগুলোর জন্যও মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
প্রশাসনের এই ত্বরিত সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ। তবে নিয়ম কার্যকরের পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি বজায় রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুন: কুর্নিশ! করোনাকালে বায়ু সেনার অবিশ্বাস্য কীর্তি, এয়ার লিফট করে পৌঁছচ্ছে অক্সিজেন ট্যাঙ্কার




