দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: কলকাতার আলিপুরে একটি সরকারি বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ব্যবহৃত প্রায় ৪,০০০ ইভিএম (EVM) পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বুধবার রাতের এই আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত ১০টি বিধানসভা কেন্দ্রের কন্ট্রোল ইউনিট, ব্যালট ইউনিট এবং VVPAT মেশিন। ঘটনার তদন্তে কলকাতা পুলিশ ইতিমধ্যে চার সদস্যের বিশেষ তদন্ত দল (SIT) গঠন করেছে।
আগুনের গতিবিধি রহস্যজনক
দক্ষিণ কলকাতার আলিপুর এলাকায় নয় তলা সরকারি ভবনটিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের দপ্তর-সহ একাধিক সরকারি দপ্তর ছিল। ৮ম ও ৯ম তলায় ছিল নির্বাচন-সংক্রান্ত অফিস এবং EVM সংরক্ষণের স্ট্রংরুম। অগ্নিকাণ্ডের যে ধরন তদন্তকারীরা দেখেছেন তাতে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। রাজ্যের অগ্নি ও জরুরি পরিষেবা দপ্তরের মন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর জানান, প্রথমে আগুন ৩য় ও ৪র্থ তলায় নিয়ন্ত্রণে আনা গেলেও দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হঠাৎই ৯ম ও ১০ম তলায় নতুন করে আগুন জ্বলে ওঠে। মাঝের ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম ও ৮ম তলা প্রায় অক্ষত থেকে যাওয়ার বিষয়টি তদন্তকারীদের কাছে বিশেষভাবে সন্দেহজনক। ‘এটি স্বাভাবিক আগুন বলে মনে হচ্ছে না। নাশকতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে,’ জানান মন্ত্রী।
কোন কোন কেন্দ্রের EVM ধ্বংস হয়েছে
তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করেছে, ধ্বংস হওয়া EVM-গুলি কসবা, যাদবপুর, বেহালা পূর্ব, বেহালা পশ্চিম, মেটিয়াবুরুজ ও সাতগাছিয়া-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত। মিড-ডে মিল, সর্ব শিক্ষা অভিযান এবং উদ্যান পালন দপ্তরের অফিসও ওই ভবনে থাকায় সেগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই অগ্নিকাণ্ডে কোনো প্রাণহানির খবর নেই।
আরও পড়ুন: মাত্র ১ টাকায় চপ! বীরভূমের এই গ্রামে গেলেই পাবেন
রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র
এপ্রিল ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দশকের পর দশক পরে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছে, BJP রাজ্যে সরকার গঠন করেছে। সেই নির্বাচনে ব্যবহৃত EVM ধ্বংসের ঘটনাটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তৃণমূল কংগ্রেস প্রশ্ন তুলেছে, এটি কি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী সাক্ষ্যপ্রমাণ নষ্ট করার ষড়যন্ত্র। কংগ্রেসের মুখপাত্র পবন খেরাও নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্ট করতে বলেছেন, এই EVM-গুলি সাম্প্রতিক নির্বাচনে সত্যিই ব্যবহৃত হয়েছিল কিনা।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার অতিরিক্ত জেলাশাসক আলিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন, যার ভিত্তিতে FIR রুজু হয়েছে। SIT ছাড়াও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে নমুনা সংগ্রহ করছেন। CCTV ফুটেজ ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে আগুনের কারণ নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।