দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: অপেক্ষার অবসান উত্তরবঙ্গে। সোমবার, ৯ জুন উপ-হিমালয় পশ্চিমবঙ্গের একাংশে পৌঁছে গেল দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু – আনুষ্ঠানিক ভাবে এই খবর জানিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)। একই সঙ্গে গোটা সিকিম এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বাকি অংশেও পুরোপুরি ঢুকেছে বর্ষা। মঙ্গলবার রাতে IMD-র জারি করা বুলেটিন অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ুর উত্তর সীমা (Northern Limit of Monsoon) এখন শিলিগুড়ির উপর দিয়ে গিয়েছে।
কোন কোন জেলা ইতিমধ্যেই বর্ষার আওতায়
IMD-র সাম্প্রতিক ম্যাপ অনুসারে, উত্তরবঙ্গের পাঁচটি জেলা – কালিম্পং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি এবং দার্জিলিঙের একাংশ – ইতিমধ্যেই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আওতায় ঢুকে পড়েছে। এই অঞ্চলগুলিতে আগামী কয়েক দিন ভারী থেকে অতি-ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। চা-বাগান এলাকায় কোথাও কোথাও সোমবার থেকেই বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের খবর।
কলকাতায় কবে আসবে বর্ষা
দক্ষিণবঙ্গবাসী, বিশেষ করে কলকাতার মানুষ যে প্রশ্নটি গত দু’সপ্তাহ ধরে করছেন, তার উত্তরও খানিকটা স্পষ্ট হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের অনুমান, ১৩ থেকে ১৬ জুনের মধ্যেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে ঢুকতে পারে বর্ষা। তার আগে, ১০ থেকে ১২ জুন গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জায়গায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টি হতে পারে। বীরভূম ও মুর্শিদাবাদ জেলায় ১৬ জুনের মধ্যে ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার গতির দমকা হাওয়ার সঙ্গে বজ্রপাতের সম্ভাবনাও আছে।
আরও পড়ুন: বিড়ম্বনা হাওড়া জেলা বিজেপিতে, জেলা সদরের বিজেপি সম্পাদকের পদ থেকে ইস্তফা সুরজিৎ ঘনিষ্ঠ বিমল প্রসাদের
বর্তমানে রাজ্যের দক্ষিণ অংশে ভ্যাপসা গরমের প্রকোপ চলছে – উচ্চ আর্দ্রতা এবং প্রাক্-বর্ষার আবহাওয়ার সম্মিলিত প্রভাবে। মৌসুমি বায়ুর পূর্ণাঙ্গ আগমন ঘটলেই এই অস্বস্তি কমার সম্ভাবনা।
আগামী চার-পাঁচ দিনের পূর্বাভাস
IMD জানিয়েছে, আগামী ৪-৫ দিনে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু আরও এগোতে পারে – কেন্দ্রীয় আরব সাগর, মহারাষ্ট্র, কর্নাটক, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ুর অবশিষ্ট অংশ, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর, পশ্চিম-মধ্য ও উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের আরও কিছু অঞ্চল, পশ্চিমবঙ্গের বাকি অংশ, এবং ছত্তিশগড়, বিহার, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার কিছু অংশে।
বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা
৯ থেকে ১৫ জুন উপ-হিমালয় পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা; ১০ থেকে ১২ জুন গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি। ১১ জুন থেকে পশ্চিম হিমালয় অঞ্চলে নতুন একটি পশ্চিমা ঝঞ্ঝা (Western Disturbance)-র প্রভাব পড়তে পারে। এর জেরে আগামী এক সপ্তাহে দেশের পূর্ব ও মধ্য ভারতেও বৃষ্টির বিস্তার ঘটতে পারে বলে মনে করছে মৌসম ভবন।
আরও পড়ুন: উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান পদ পেলেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ
কেরল থেকে কলকাতা – এ বার সময়মতোই
এ বছর দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু কেরলে পৌঁছেছিল ৪ জুন। স্বাভাবিক সূচির খুব কাছাকাছি সময়েই উত্তরবঙ্গে পৌঁছল বর্ষা। কৃষিনির্ভর অর্থনীতির জন্য এটি ইতিবাচক ইঙ্গিত। বিশেষত উত্তরবঙ্গের চা-বাগান এবং দক্ষিণবঙ্গের আমন ধান চাষের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সময়মতো বৃষ্টি জরুরি। তবে IMD জানিয়েছে, উপ-হিমালয় অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির পরিপ্রেক্ষিতে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার সম্ভাবনার দিকে নজর রাখতে হবে – দার্জিলিং, কালিম্পং ও সিকিমের পাহাড়ি অঞ্চলে এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
কলকাতার আকাশে কালো মেঘ ঘনিয়ে আসার অপেক্ষা এখন আর কয়েক দিনের।