সিপিএমের সঙ্গে জোট ভেঙে বিজেপির সুবিধে করে দিয়েছে কংগ্রেস, সোমেন মিত্রকে নিশানা করে তৃণমূলের সঙ্গে সুসম্পর্কের সওয়াল ওমপ্রকাশ মিশ্রর

বামেদের সঙ্গে আসন সমঝোতা ভেঙে দিয়ে রাজ্যে বিজেপির সুবিধে করে দিয়েছেন কংগ্রেস নেতৃত্বের একাংশ, এই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে কংগ্রেস সহ সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ওমপ্রকাশ মিশ্র। আসন সমঝোতা ভেঙে দেওয়ার জন্য তিনি সরাসরি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্রকে দায়ী করেন। পাশাপাশি, বিজেপিকে ঠেকাতে প্রয়োজনে এ রাজ্যে তৃণমূলের সঙ্গে শর্তসাপেক্ষ সহযোগিতার রাস্তা খোলার পক্ষেও সওয়াল করলেন তিনি।
বুধবার ওমপ্রকাশ মিশ্র নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট করে সরাসরি নিশানা করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র সহ এই রাজ্যের কংগ্রেস নেতাদের একাংশের। তাঁর অভিযোগ, লোকসভায় পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের ফল অত্যন্ত খারাপ হয়েছে। তার দায় নিয়ে নেতৃত্বের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত। তিনি লেখেন, গত ১৫ ই জুন প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির মিটিংয়ে তিনি এই কথা জানিয়েছেন এবং খারাপ ফলের দায় নিয়ে তিনি নিজে পদত্যাগ করবেন। বৃহস্পতিবার ওমপ্রকাশ মিশ্র তাঁর পদত্যাগ পত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতিকে।

ওমপ্রকাশ মিশ্রর এই ফেসবুক বার্তার পরই আলোড়ন পড়ে যায় কংগ্রেসের অন্দরে। শুধু নেতৃত্বের পদত্যাগের দাবি তুলেই থামেননি তিনি। তৃণমূলের সঙ্গে সুসম্পর্কের সওয়ালও করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হলে ওমপ্রকাশ মিশ্র বলেন, রাজ্যে বামেদের সঙ্গে আসন সমঝোতা হলে কংগ্রেসের ফল অনেক ভাল হোত, পাশাপাশি বিজেপিও এত আসন পেত না। কিন্তু অহেতুক জেদাজেদি করে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি এবং আরও কয়েকজন নেতা শুধুমাত্র একটি-দুটি আসনের জন্য আসন সমঝোতা ভেঙে দেন, যার মাশুল ভোটে দিতে হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিরোধী দলের জায়গাটা দখল করে নিয়েছে বিজেপি। যা আসন সমঝোতা হলে কখনই হোত না।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যে বামেদের সঙ্গে আসন সমঝোতার পক্ষে জোরদার সওয়াল করছেন ওমপ্রকাশ মিশ্র। এবার লোকসভার অনেক আগেই এই ইস্যুতে সরব হয়েছেন তিনি। প্রসঙ্গত, রাহুল গান্ধী এবং সীতারাম ইয়েচুরি আসন সমঝোতার ব্যাপারে প্রাথমিকভাবে ঐক্যমত্য হলেও, রায়গঞ্জ আসনে প্রার্থী দেওয়ার জন্য জেদ ধরে থাকেন দীপা দাশমুন্সি এবং প্রদেশ নেতৃত্বের একাংশ। যার জেরে শেষ পর্যন্ত আসন সমঝোতা ভেঙে যায় এবং দীপা দাশমুন্সি চতুর্থ হন।
ওমপ্রকাশ মিশ্র আরও বলেন, লোকসভার ফল বেরনোর পর থেকে রাজ্যে যা পরিস্থিতি তাতে বিজেপিকে প্রধান বিপদ চিহ্নিত করে অবিলম্বে কংগ্রেসের রাজনৈতিক লাইন ও কৌশল ঠিক করা উচিত। এমন কিছু করা উচিত নয়, যাতে বিজেপির বাড়তি সুবিধে হয়ে যায়। তাঁর সওয়াল, কংগ্রেসকে প্রয়োজনে শর্তসাপেক্ষে তৃণমূলের সঙ্গে সহযোগিতার সম্পর্ক রাখতে হবে। কারণ, তৃণমূলের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে কংগ্রেসের বিরোধ থাকলেও, আদর্শগতভাবে দু’দলে কোনও ফারাক নেই। বিভিন্ন সময়ে ওমপ্রকাশ মিশ্র তীব্র মমতা বিরোধিতা করলেও, লোকসভা নির্বাচন পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তৃণমূলের প্রতি তাঁর এই নরম মনোভাব যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Comments are closed.