দেশের মোট এনপিএ’র পরিমাণ প্রায় ১০ লক্ষ কোটি টাকা, মাত্র ৩০ জনের নামেই ২ লক্ষ ৮৬ হাজার কোটি, প্রকাশ আরটিআইয়ে

এবছরের ৩১ শে মার্চ পর্যন্ত দেশের ব্যাঙ্কগুলোতে নন পারফর্মিং অ্যাসেটস বা এনপিএ-র (কোনও সংস্থা বা ব্যক্তিকে দেওয়া ব্যাঙ্ক ঋণের উপর সুদ তিনমাস অনাদায়ী থাকলে তাকে এনপিএ হিসেবে চিহ্নিত করে ব্যাঙ্ক) পরিমাণ ছাড়িয়েছে ৯ লক্ষ ৪৯ হাজার কোটি টাকা। সেই তালিকায় একেবারে উপরের ৩০ জনের নামেই রয়েছে মোট এনপিএ-র এক তৃতীয়াংশ। যার পরিমাণ ২ লক্ষ ৮৬ হাজার কোটি টাকা। একটি আরটিআইয়ের উত্তরে এমনই জানিয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। যদিও এই ৩০ জন কারা কিংবা এই সংক্রান্ত কোনও তথ্য আরবিআইয়ের তরফে দেওয়া হয়নি। নিউজ পোর্টাল The Wire এর একটি প্রতিবেদনে এমনই দাবি করা হয়েছে।

সর্বভারতীয় নিউজ পোর্টাল The Wire আরবিআইয়ের কাছে তথ্যের অধিকার আইনের আওতায় এনপিএ সম্পর্কিত তথ্য জানতে চায়। সম্প্রতি এর উত্তরে আরবিআই জানায়, ৩১ শে মার্চ পর্যন্ত দেশের কমার্শিয়াল ব্যাঙ্কগুলির সম্মিলিত এনপিএ-র পরিমাণ ৯ লক্ষ ৪৯ হাজার কোটি টাকা। যার মধ্যে ২ লক্ষ ৮৬ হাজার কোটি টাকাই ভারতের সর্বোচ্চ ৩০ জন ঋণখেলাপির নামে। এই এনপিএ-র পরিমাণ ২০১৭ সালের এপ্রিল মাস থেকে রাজ্যগুলো যত কৃষি ঋণ মকুব করেছে, তার ৫০ শতাংশ বেশি। আর শুরুর ৩০ জনের মোট এনপিএ-র পরিমাণ আরবিআই কথিত মিডিয়াম ইন্ডাস্ট্রি বা মাঝারি উদ্যোগের সম্মিলিত ঋণের পরিমাণের চেয়েও অনেকটাই বেশি। তবে কারা এই ৩০ জন ঋণখেলাপি, সেই তথ্য আরবিআই প্রকাশ করতে অস্বীকার করেছে বলে The Wire সূত্রে খবর। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, আলাদাভাবে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য তাদের কাছে নেই। যদিও কয়েক মাস আগেই সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়ে দিয়েছিল, আরটিআইয়ের জবাবে ঋণখেলাপিদের যাবতীয় তথ্য প্রকাশ করতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। এক্ষেত্রে আরবিআইয়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ উঠছে।

পাশাপাশি, স্বাভাবিকভাবে এই প্রশ্নও উঠেছে, যদি অ্যাকাউন্ট প্রতি তথ্য নাই থাকে, তাহলে কীভাবে দেশের ৩০ জন ঋণখেলাপিই যে এক তৃতীয়াংশ এনপিএ ঋণ গ্রহীতা এই তথ্য পেল আরবিআই। এবছরেরই ২৬ শে এপ্রিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, বাৎসরিক পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট এবং ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের তালিকা তথ্য জানার অধিকার আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়েছিল, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নন ডিসক্লোজার পলিসি বা গোপনীয়তার নীতি ২০১৫-এর আদালতের রায়ের পরিপন্থী। সুপ্রিম কোর্ট কার্যত ভর্ৎসনার সুরে রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে সতর্ক করে বলেছিল, এটাই শেষ সুযোগ। পরবর্তীতে একই অভিযোগ এলে, তাকে আদালত অবমাননা হিসেবেই দেখবে সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু নিউজ পোর্টালের করা আরটিআইয়ের জবাবে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ৩০ জন সর্বোচ্চ ঋণখেলাপির সম্বন্ধে তথ্য সরবরাহে আপত্তি জানানোয়, প্রশ্ন উঠছে, এটা কি তাহলে আদালত অবমাননা নয়?

Comments are closed.