দেশজোড়া বিতর্কের পর গুয়াহাটি হাইকোর্টে জামিন কার্গিল যুদ্ধের সৈনিক সানাউল্লাহর, আটক ছিলেন ডিটেনশন ক্যাম্পে

গুয়াহাটি হাইকোর্টে জামিন পেলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রাক্তন ক্যাপ্টেন এবং কার্গিল যুদ্ধে অংশ নেওয়া মহম্মদ সানাউল্লাহ। গত ২৩ শে মে, এনআরসি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বোকো ফরেনার্স ট্রাইবুনাল তাঁকে ‘বিদেশি’ আখ্যা দিয়েছিল। তারপর থেকে প্রাক্তন এই সেনার ঠাঁই হয়েছে অসমের গোয়ালপাড়া ডিটেনশন ক্যাম্প। গত ৩১ শে মে, অসমের কামরূপ জেলার কোলোহিকাস গ্রামের বাসিন্দা মহম্মদ সানাউল্লাহের পরিবার সুবিচারের আশায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। শুক্রবার তাঁকে জামিন দিল আদালত।
এর আগে পুলিশের যে অফিসার সানাউল্লার বিরুদ্ধে রিপোর্ট তৈরি করেছিলেন, লাগাতার অভিযোগের মুখে পড়ে তাঁর বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করেছিল অসম পুলিশ। সেই অফিসার সাক্ষীর সই জাল করে সানাউল্লার বিরুদ্ধে রিপোর্ট তৈরি করেছিলেন বলে অভিযোগ।
শুক্রবার মামলার শুনানিতে মহম্মদ সানাউল্লাহের তরফে আইনজীবী হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন ইন্দিরা জয় সিংহ। তাঁকে সহায়তা করেন গুয়াহাটি হাইকোর্টের আরও ৪ আইনজীবী। শুনানিতে দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারক মনোজিৎ ভুঁইঞা এবং প্রশান্তকুমার ডেকার বেঞ্চ সেনাবাহিনীর প্রাক্তন সাম্মানিক ক্যাপ্টেন মহম্মদ সানাউল্লাহকে শর্ত সাপেক্ষে জামিন দেয়। তবে মুক্তির আগে সানাউল্লাহের চোখের স্ক্যান এবং আঙুলের ছাপ সংগ্রহের নির্দেশও দিয়েছে গুয়াহাটি হাইকোর্ট।
এই মামলায় সানাউল্লার অপর আইনজীবী অমন ওয়াদুদ বলেন, সঠিক তদন্ত হওয়া উচিত। কোনও প্রকৃত নাগরিককে যেন অযথা বেআইনি শরণার্থী হিসেবে দেগে দিয়ে হেনস্থা করার ঘটনা না ঘটে। ঠিক যেমন আজ এর শিকার হয়েছেন দেশের গর্ব মহম্মদ সানাউল্লাহ।
মহম্মদ সানাউল্লাহকে আটক করার পরেই তাঁর চাকরি কেড়ে নেয় অসম পুলিশ। সেনা থেকে অবসর নেওয়ার পর মহম্মদ সানাউল্লাহ অসম বর্ডার পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর হিসেবে কামরূপ গ্রামীণ জেলার বাইহাটা চারিয়ালি থানায় কর্মরত ছিলেন।
সেনাবাহিনীতে থাকাকালীন সাম্মানিক ক্যাপ্টেন মহম্মদ সানাউল্লাহ নিজে জম্মু-কাশ্মীরে জঙ্গি দমনের কাজ করেছেন। কুপওয়াড়ায় নিয়ন্ত্রণ রেখাতেও দায়িত্বে ছিলেন তিনি। অংশ নিয়েছেন কার্গিল যুদ্ধেও। পাশাপাশি, ২০০৭ থেকে ২০১০ এর মধ্যে মহম্মদ সানাউল্লাহ ভারতীয় সেনার হয়ে মনিপুরে জঙ্গি দমন অপারেশনে অংশগ্রহণ করেছেন। সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর অসমের কামরূপে নিজের বাড়িতে ফিরে অসম পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর হিসেবে যোগ দেন তিনি। তাঁকেই সম্প্রতি বিদেশি নাগরিকের তকমা দিয়ে আটক করার নির্দেশ দেয় বোকো ফরেনার্স ট্রাইবুনাল।

Comments are closed.