নীরব মোদী বিজেপির পার্টনার, তাদের নির্বাচনী প্রচারে টাকা জোগাতেন, চাঞ্চল্যকর অভিযোগ বিজেপির শরিক শিবসেনার

বুধবার লন্ডনে গ্রেফতার হয়েছেন ১৩ হাজার কোটি টাকা ঋণখেলাপি মামলায় অভিযুক্ত হীরে ব্যবসায়ী নীরব মোদী। তাঁর গ্রেফতারির পর থেকেই শুরু হয়েছে মোদী সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে আক্রমণ, প্রতি আক্রমণ। বিজেপি দাবি করছে, দুর্নীতিগ্রস্তদের রেহাই নেই মোদী সরকারের হাত থেকে। অন্যদিকে, বিরোধীরা একে লোকসভা ভোটের আগে ‘গট আপ কেস’ বলে কটাক্ষ করছে।
এবার বিজেপির অস্বস্তি বাড়ালো তাদের জোটসঙ্গী শিবসেনা। বিজেপির দীর্ঘদিনের জোট শরিক শিবসেনা দাবি করেছে, নীরব মোদী বিজেপিরই ‘পার্টনার’। লোকসভা ভোটের দোরগোড়ায় লন্ডনে গ্রেফতার হওয়া নীরব মোদী আসলে বিজেপির নির্বাচনী প্রচারে টাকা জোগাতেন বলে অভিযোগ বিজেপির মহারাষ্ট্রের শরিক দলের।
গত শনিবার শিবসেনার মুখপত্র, ‘সামানা’তে লেখা হয়, কোটি কোটি টাকা ঋণখেলাপির মামলায় অভিযুক্ত নীরব মোদী দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে। যদিও, তার কয়েক সপ্তাহ আগে দাভোসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা গিয়েছিল নীরব মোদীকে। উল্লেখ্য, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের মিটিংয়ে যোগ দিতে দাভোস গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
উদ্ভব ঠাকরের দলের মুখপত্রে লেখা হয়, নীরব মোদী আসলে বিজেপির পার্টনার হয়ে কাজ করে এসেছেন এতদিন। বিভিন্ন নির্বাচনী প্রচারে বিজেপির অর্থ সাহায্যকারী হিসেবে একেবারে পুরোভাগে ছিলেন এই হীরে ব্যবসায়ী। যদিও, নীরব মোদী বিজেপি নেতাদের আশীর্বাদেই ‘দেশ লুঠ’ করেছেন এমন অভিযোগ সরাসরি করছে না শিবসেনা। তবে তাদের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, এমন অনেক নীরব মোদী বিজেপির সম্পত্তি বৃদ্ধিতে এবং ভোটে জিততে সাহায্য করে আসছেন।
সামনা’র সম্পাদকীয়তে লেখা হয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্বাচনী স্লোগান ‘না খাউঙ্গা, না খানে দুঙ্গা’ (দুর্নীতি করব না, করতেও দেব না) আসলে বিফলে গিয়েছে। বহু আগেই নীরব মোদীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। নীরব মোদীর দেশ ছাড়ার পর তাঁর সম্পত্তিও সিল করে দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তা সত্ত্বেও নীরব মোদী কীভাবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার ব্যবস্থা করে ফেলেন, সেই প্রশ্ন তুলেছে ‘সামনা’।
শিবসেনার মুখপত্রে বিজেপি সরকারকে কটাক্ষ করে লেখা হয়েছে, লালুপ্রসাদ যাদবের মতো রাজনৈতিক নেতারা দুর্নীতি মামলায় জেল খাটছেন। কিন্তু নীরব মোদী, বিজয় মালিয়ার মতো ব্যবসায়ীরা সরকারের নাকের ডগায় আর্থিক দুর্নীতি করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।
বিজেপিকে আক্রমণ করে সামনায় লেখা হয়েছে, গত কয়েক বছরেই দুর্নীতি মুক্ত ভারত বা স্বচ্ছ সরকারের চেহারা বেরিয়ে পড়েছে। কৃষকরা সামান্য দেনার দায়ে আত্মহত্যা করছেন আর কয়েকজন লক্ষ, কোটি টাকা নয়ছয় করে দেশ ছেড়ে পালাচ্ছেন। মোদী সরকারের কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিজ্ঞাপনী প্রচার করারও বিরোধিতা করা হয় সামানা’র ওই প্রতিবেদনে।
এর আগেও বিভিন্ন ইস্যুতে বিজেপি সরকারের একহাত নিয়েছে তাদের জোট শরিক শিবসেনা।

Comments
Loading...