রবীন্দ্র সরোবরে জগিং: রাজ্যপাল বিঁধলেন ফের সরকারকে! পাল্টা চন্দ্রিমা, আমরা ওনার জ্ঞান শোনার জন্য বসে নেই

রাজ্যপালের সঙ্গে মন্ত্রীদের তর্কযুদ্ধ লেগেই রয়েছে। দুই তরফের কেউ সংযত তো হচ্ছেন না, বরং একে অপরকে লাগামছাড়া আক্রমণ করেই চলেছেন। এর শেষ কবে হবে, উত্তর জানা নেই কারও। এই নজিরবিহীন ঘটনায় বিস্মিত সব মহল। সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এরকম নজির প্রায় নেই বললেই চলে। বুধবার মুর্শিদাবাদের ডোমকলে একটি কলেজের অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়কে কালো পতাকা দেখায় তৃণমূল সমর্থকরা। তাঁকে ঘিরে গো ব্যাক স্লোগান দেওয়া হয়। রাজ্যপাল অবশ্য গাড়ি থেকে বিক্ষোভকারীদের দিকে হাত নেড়ে বিষয়টিকে লঘু করে দেন। পরে তিনি বলেন, কই, আমি তো কিছু দেখিনি। রাতে রাজ্যপাল অভিযোগ করেন, পুলিশের মদতে ওই বিক্ষোভ হয়েছে। অনুষ্ঠানের আগে পরে সেখানে পুলিশ খুব কম ছিল।
আর বৃহস্পতিবার সকাল হতেই দুই তরফের ঝগড়া শুরু হয়ে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে রাজ্যপাল বলেন, প্রতিদিনই কোনও না কোনও মন্ত্রী আমাকে আক্রমণ করছেন। মুখ্যমন্ত্রীকে বলছি, হয় আপনি নিজে কথা বলুন নতুবা, এর জন্য একটি দফতর করে কোনও মন্ত্রীকে সম্পূর্ণ দায়িত্ব দিন আমার বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য। এদিন সস্ত্রীক প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে আরও শানিত আক্রমণ করেন ধনকড়। তাঁর অভিযোগ, রাজভবন থেকে রবীন্দ্র সরোবর পর্যন্ত বিস্তৃত রাস্তার দু’পাশে প্রচুর নোংরা-আবর্জনা দেখেছেন। বলেন, এ ব্যাপারে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের তৎপর হওয়া উচিত। রাজ্যের পুরমন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়রের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, তাঁর মতো তিনিও যেন সকালে বেড়াতে বেরোন। এবং সেসময় অবশ্যই গাড়ির কাচ নামিয়ে শহর দেখতে দেখতে যান। রাজ্যপালের কটাক্ষ, মুখে কথা বললে হয় না, কাজও করতে হয়। এছাড়াও তিনি একহাত নেন মুখ্যমন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে। তাঁর সম্পর্কে রাজ্যপালের মন্তব্য, তিনি আমাকে আক্রমণ না করে যেন নিজের দফতরের প্রতি নজর দেন। স্বাস্থ্য দফতর নিয়ে আমার কাছে বিস্তর অভিযোগ আসে। রাজ্যপালের এই ‘পরামর্শ’ একেবারেই ভালোভাবে নেয়নি শাসক দল। মেয়র বলেন, উনি তো অন্য রাজ্য থেকে এসেছেন, এই রাজ্য সম্পর্কে তিনি আর কতটুকু জানবেন! আরও চাঁচাছোলা ভাষায় রাজ্যপালকে আক্রমণ করেন চন্দ্রিমা। তিনি বলেন, আমরা ওনার কাছে জ্ঞান শুনতে আসিনি। কে গাড়ির কাচ নামাবে, কে নামাবে না এসব দেখার জন্য উনি এখানে আসেননি। তিনি জানেন, রবীন্দ্র সরোবর আগে কী অবস্থায় ছিল? রবীন্দ্র সরোবরের পবিত্র হাওয়ায় তাঁর স্বাস্থ্য ভালো থাকুক, রাজ্য সরকারের তরফে এটাই আমরা চাই।
সকালে রবীন্দ্র সরোবরে রাজ্যপাল এবং তাঁর স্ত্রী ট্রাক স্যুট পরে জগিং করেন। অন্য প্রাতঃভ্রমণকারীদের সঙ্গে  হাসি-ঠাট্টায় মেতে ওঠেন, বাচ্চাদের সঙ্গে ফুটবলও খেলেন। সাংবাদিকরা আসন্ন সংবিধান দিবস উপলক্ষ্যে প্রশ্ন করলে ধনকড় জবাব দেন, আপনারা আগে রাজ্যকে প্রশ্ন করুন সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে আমি তাঁদের কাছ থেকে ন্যূনতম সম্মান বা সহযোগিতা পাই কি না।
Comments
Loading...