দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: ভারতের অটোমোবাইল বাজারে ফ্লেক্স ফুয়েল ভেহিকল (FFV) বা নমনীয় জ্বালানি চালিত গাড়ির আলোচনা এখন তুঙ্গে। পেট্রোল ও ইথানলের মিশ্রণে চলা এই বিশেষ ইঞ্জিন প্রযুক্তির গাড়িগুলি কি সাধারণ ক্রেতাদের জন্য লাভজনক? নাকি নতুন গাড়ি কেনার পরিকল্পনা থাকলে এখনকার সাধারণ পেট্রোল ইঞ্জিনের গাড়ির ওপর ভরসা রাখাই ভালো? এই ধন্দ কাটাতে প্রযুক্তি ও খরচ দুই দিকই খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
ফ্লেক্স ফুয়েল প্রযুক্তি আসলে কী?
ফ্লেক্স ফুয়েল ইঞ্জিন এমনভাবে তৈরি করা হয় যা পেট্রোল এবং ইথানলের যে কোনো অনুপাতে (E20 থেকে E85 পর্যন্ত) চলতে সক্ষম। ভারতে বর্তমানে সরকার ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে। এই প্রযুক্তির মূল সুবিধা হলো, জ্বালানি হিসেবে ইথানল ব্যবহারের ফলে অপরিশোধিত তেলের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং পরিবেশ দূষণও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ফ্লেক্স ফুয়েল ইঞ্জিন স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বালানির মিশ্রণ বুঝে নিয়ে ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা পরিবর্তন করতে পারে।
কেন অপেক্ষা করবেন বা করবেন না?
অটোমোবাইল বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্লেক্স ফুয়েল গাড়ির জন্য এখনই অপেক্ষা করার আগে কিছু বাস্তব বিষয় বিবেচনা করা জরুরি:
- জ্বালানির সহজলভ্যতা: বর্তমানে ভারতের সব পেট্রোল পাম্পে ইথানলের উচ্চ মিশ্রণযুক্ত জ্বালানি (যেমন ই৮৫) সহজলভ্য নয়। ফলে গাড়ি কিনলেও জ্বালানি পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে পারেন ক্রেতারা।
- খরচ ও মাইলেজ: ইথানলের ক্যালরিফিক ভ্যালু পেট্রোলের চেয়ে কম। তাই ফ্লেক্স ফুয়েল মোডে গাড়ি চালালে সাধারণ পেট্রোল ইঞ্জিনের তুলনায় মাইলেজ কিছুটা কম হতে পারে। তবে সরকারি উদ্যোগে ইথানলের দাম পেট্রোলের চেয়ে সস্তা হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে খরচে ভারসাম্য আসতে পারে।
- রক্ষণাবেক্ষণ: নিয়মিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইঞ্জিনের পার্টস কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে এখনও বড় মাপের দীর্ঘমেয়াদী পরীক্ষার ফলাফল আসা বাকি।
নতুন গাড়ি ক্রেতাদের জন্য পরামর্শ
যদি আপনি দীর্ঘকালীন ব্যবহারের কথা ভেবে গাড়ি কিনতে চান এবং আপনার এলাকায় ফ্লেক্স ফুয়েল পরিকাঠামো উন্নয়নের সম্ভাবনা কম থাকে, তবে বর্তমানের আধুনিক পেট্রোল বা হাইব্রিড ইঞ্জিনের গাড়িগুলোই বেশি নির্ভরযোগ্য। তবে যাঁরা প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে থাকতে পছন্দ করেন এবং আগামী ৩-৫ বছরের মধ্যে দেশের জ্বালানি নীতিতে বড় রদবদল আশা করছেন, তাঁদের জন্য অপেক্ষা করা একটি বিকল্প হতে পারে। বর্তমানে হুন্ডাই, টাটা এবং মারুতির মতো বড় সংস্থাগুলো ফ্লেক্স ফুয়েল প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণায় জোর দিচ্ছে, যার ফলে আগামী দিনে আরও উন্নত এবং সাশ্রয়ী মডেল বাজারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।




