দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: ভারতের হ্যাচব্যাক গাড়ির বাজারে টাটা টিয়াগো বরাবরই একটি নির্ভরযোগ্য এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় নাম। সেই সাফল্যকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে টাটা মোটরস লঞ্চ করেছে তাদের সম্পূর্ণ নতুন ২০২৬ টাটা টিয়াগো ফেসলিফ্ট। জেন-নেক্সট ডিজাইনের পাশাপাশি এই ছোট গাড়িতে এমন কিছু প্রিমিয়াম ফিচার যুক্ত করা হয়েছে, যা সাধারণত প্রিমিয়াম এসইউভি বা দামি সেডানে দেখা যায়। নতুন এই গাড়ির পারফরম্যান্স, ডিজাইন এবং ফিচার্স কেমন, তা খতিয়ে দেখতে আমরা হাজির হয়েছিলাম এক বিস্তারিত রিভিউ নিয়ে।
নজরকাড়া নতুন ডিজাইন ও এক্সটেরিয়র প্রথম দর্শনেই নতুন টাটা টিয়াগো (Tata Tiago 2026) আপনাকে চমকে দেবে। গাড়ির সামনের অংশে বড় বদল আনা হয়েছে। এতে দেওয়া হয়েছে টাটা কার্ভ এবং পাঞ্চ অনুপ্রাণিত নতুন শার্প এলইডি হেডল্যাম্প এবং নতুন ডিজাইনের ফ্রন্ট গ্রিল। গাড়ির বাম্পারটিকে আগের চেয়ে অনেক বেশি মাসকুলার করা হয়েছে, যা একে একটি স্পোর্টি লুক দেয়। পেছনের অংশে যুক্ত হয়েছে নতুন লিনিয়ার এলইডি টেললাইট এবং রি-ডিজাইন করা রিয়ার বাম্পার। এছাড়া নতুন ১৫ ইঞ্চির ডায়মন্ড-কাট অ্যালয় হুইল গাড়িটির প্রিমিয়াম অ্যাপিল অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।
সেগমেন্ট-ফার্স্ট ফিচার্স ও কেবিন ওভারহল নতুন টিয়াগোর কেবিনে পা রাখলেই বোঝা যায় টাটা মোটরস সুরক্ষায় এবং প্রিমিয়াম ফিল দিতে কোনও খামতি রাখেনি। এই সেগমেন্টের প্রথম গাড়ি হিসেবে এতে যোগ করা হয়েছে ৩৬০-ডিগ্রি সারাউন্ড ভিউ ক্যামেরা, যা ঘিঞ্জি রাস্তায় বা পার্কিংয়ের সময় চালককে দারুণ সাহায্য করবে। ড্যাশবোর্ডে রয়েছে একটি নতুন ৮ ইঞ্চির ফ্লোটিং টাচস্ক্রিন ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম, যা ওয়্যারলেস অ্যাপল কারপ্লে এবং অ্যান্ড্রয়েড অটো সাপোর্ট করে। ড্রাইভারের জন্য রয়েছে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টার, অটোমেটিক ক্লাইমেট কন্ট্রোল এবং একটি নতুন ফ্ল্যাট-বটম স্টিয়ারিং হুইল।
আরও পড়ুন: চাকরি হারিয়েও লক্ষ্মী লাভ; ট্যুইটার থেকে পরাগ পাচ্ছেন কয়েকশো কোটি
ইঞ্জিন পারফরম্যান্স ও নতুন এএমটি প্যাডেল শিফটার্স ২০২৬ টাটা টিয়াগোতে দেওয়া হয়েছে চিরপরিচিত ১.২ লিটার, ৩-সিলিন্ডার রেভোট্রন পেট্রোল ইঞ্জিন, যা ৮৬ বিএইচপি শক্তি এবং ১১৩ এনএম টর্ক উৎপাদন করে। তবে সবচেয়ে বড় চমক রয়েছে এর এএমটি (AMT) গিয়ারবক্সে। এই প্রথম কোনও বাজেট হ্যাচব্যাকে চালকদের স্পোর্টি রাইডিংয়ের অভিজ্ঞতা দিতে স্টিয়ারিংয়ের পেছনে প্যাডেল শিফটার্স (Paddle Shifters) যুক্ত করা হয়েছে। হাইওয়েতে ওভারটেকিংয়ের সময় এই ফিচারটি দারুণ কাজ করে। এর পাশাপাশি টুইন-সিলিন্ডার প্রযুক্তির আই-সিএনজি (iCNG) ভ্যারিয়েন্টেও এই গাড়িটি উপলব্ধ, যা সিএনজি মোডেও এএমটি গিয়ারবক্সের সুবিধা দেয় এবং দুর্দান্ত মাইলেজ প্রদান করে।
সুরক্ষা ও রাইড কোয়ালিটি টাটা মানেই সুরক্ষার প্রশ্নে আপসহীন মনোভাব। নতুন টিয়াগোও এর ব্যতিক্রম নয়। এতে স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে দেওয়া হয়েছে ৪টি এয়ারব্যাগ (টপ ভ্যারিয়েন্টে ৬টি), এবিএস (ABS) সহ ইবিডি (EBD), ইলেকট্রনিক স্টেবিলিটি কন্ট্রোল (ESC), এবং রিয়ার পার্কিং সেন্সর। হাই-স্পিড স্টেবিলিটি এবং রাইড কোয়ালিটির দিক থেকে গাড়িটি অত্যন্ত চমৎকার পারফর্ম করে। ভাঙাচোরা রাস্তায় এর সাসপেনশন চমৎকারভাবে ধাক্কা সামলে নেয় এবং কেবিনের ভেতরে ঝাঁকুনি পৌঁছাতে দেয় না।
নতুন টাটা টিয়াগোর এক্স-শোরুম দাম শুরু হচ্ছে ৫.৬৫ লাখ টাকা থেকে, যা এর টপ-এন্ড এএমটি ভ্যারিয়েন্টের জন্য ৮.৮৫ লাখ টাকা পর্যন্ত যায়। এই বাজেটে ৩৬০-ডিগ্রি ক্যামেরা ও প্যাডেল শিফটার্সের মতো আধুনিক ফিচারের মেলবন্ধন নতুন টিয়াগোকে মারুতি সুজুকি সুইফট এবং হুন্ডাই গ্র্যান্ড আই১০ নিওসের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে রাখল।
আরও পড়ুন: মুকেশ আম্বানির মাস্টারস্ট্রোক! মাত্র ১ টাকায় ভ্যালিডিটি ৩০ দিন, Jio আনলো নতুন রিচার্জ প্ল্যান




