দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: বলিউডের প্রথম সারির তারকাদের বিলাসবহুল বাড়ি বা ভ্যাকেশন হোমের কথা উঠলেই সাধারণ মানুষের চোখে ভেসে ওঠে নীল সমুদ্রের সৈকত, ইনফিনিটি পুল আর আধুনিক ঝাঁ-চকচকে দেওয়াল। কিন্তু অভিনেতা সুনীল শেট্টির কাছে আভিজাত্য বা লাক্সারির সংজ্ঞাটা একেবারেই আলাদা। তিনি কৃত্রিম চাকচিক্য ছেড়ে প্রকৃতির কোলে তৈরি করেছেন নিজের এক স্বর্গরাজ্য। মুম্বইয়ের কোলাহল থেকে দূরে খণ্ডালার সবুজ পাহাড়ের বুকে গড়ে তুলেছেন এক চোখধাঁধানো ইকো-ফ্রেন্ডলি ভিলা, যার অন্দরমহলের ছবি সম্প্রতি নেটদুনিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
বিশাল আকৃতির প্রাকৃতিক পাথর, চারপাশের সবুজ উপত্যকা, বহমান পাহাড়ি ঝরনা আর কুয়াশায় ঘেরা সকাল- সুনীলের এই ভ্যাকেশনের মূল আকর্ষণ এগুলোই। খণ্ডালার এই খামারবাড়িতেই অভিনেতা তাঁর পরিবারের সঙ্গে অবসর সময় কাটাতে ভালোবাসেন। অভিনেতার এই বাংলোটি বাইরে থেকে যতটা মনোরম, ভেতর থেকেও ঠিক ততটাই নান্দনিক ও বিস্ময়কর।
প্রকৃতির উপাদানে তৈরি অন্দরমহল ও অনন্য রেলওয়ে বিম
আরও পড়ুন: নন্দীগ্রাম আসলে যা ঘটেছিল #২৬: সিআরপিএফের সঙ্গে পুলিশের মারপিট! ফের উত্তপ্ত হল নন্দীগ্রাম
খণ্ডালার এই বিলাসবহুল ভিলাটি তৈরি করার সময় প্রকৃতির স্বাভাবিক ভারসাম্যকে সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে। সুনীল শেট্টি তাঁর এই বাংলো তৈরিতে প্রাকৃতিক উপাদানের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন। স্থপতিরা জানিয়েছেন, পাহাড়ের ভেতরের বিশাল সব প্রাকৃতিক পাথর বা খণ্ডকে না ভেঙে সেগুলোকে সুকৌশলে ঘরের ভেতরের ডিজাইনের অংশ করে নেওয়া হয়েছে। ফলে ঘরের ভেতরেই এক আদিম পাহাড়ি পরিবেশের আমেজ পাওয়া যায়।
বাংলোর আরও একটি চমৎকার বৈশিষ্ট্য হলো এর ভেতরের যাতায়াতের রাস্তা। পুরনো রেলপথের কাঠের বিম বা স্লিপার ব্যবহার করে ঘরের ভেতরে একটি সুন্দর ওয়াকওয়ে তৈরি করা হয়েছে, যা সরাসরি ডাইনিং এরিয়ার দিকে চলে যায়। ইকো-ডিজাইনের এই অনবদ্য নিদর্শন পুরো ভিলাটিকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে।
দুই ভাগে খুলে যাওয়া ছাদ এবং রিসোর্টের অনুভূতি
আরও পড়ুন: ১০ বছর সরকারি হাসপাতালে চাকরি করতে হবে ডাক্তারদের, নয়তো ১ কোটি টাকা জরিমানা, নয়া নিয়ম যোগী সরকারের
সুনীলের এই খামারবাড়ির সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হলো এর একটি বিশেষ ঘর, যার ছাদটি প্রয়োজন অনুযায়ী যান্ত্রিকভাবে দুই ভাগে ভাগ হয়ে খুলে যায়। রাতের বেলা ঘরের আলো নিভিয়ে খোলা ছাদের নিচে শুয়ে আকাশভরা তারা দেখার জন্য এই বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, পুরো প্রপার্টির মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে একটি ছোট ও সরু খালের মতো কৃত্রিম জলাশয়। কাঠের তৈরি প্রবেশদ্বার এবং এই জলাশয়ের ওপর তৈরি ছোট্ট একটি কাঠের সেতু পার হয়ে যখন মূল ভিলায় ঢুকতে হয়, তখন মনে হবে কোনো পাঁচতারা পাহাড়ি রিসোর্টে এসে হাজির হয়েছেন।
কাচ ও পাথরের মেলবন্ধনে রোমাঞ্চকর ভিউ
ভিলাটির ভেতরের সাজসজ্জায় প্রকৃতির রঙকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ঘরের দেওয়ালে কৃত্রিম রঙের বদলে কাঁচা ও অমসৃণ পাথুরে টেক্সচার ধরে রাখা হয়েছে, যা প্রতিটি কোণকে আরও জীবন্ত করে তোলে। বাংলোর চারপাশের দেওয়াল জুড়ে রয়েছে বিশাল আকৃতির কাচের জানলা এবং বসার জন্য উন্মুক্ত জায়গা। সোফায় বা চেয়ারে যেখানেই বসা হোক না কেন, চোখের সামনে সবসময় ধরা দেয় সবুজ পাহাড় আর বহমান ঝরনার লাইভ দৃশ্য। প্রকৃতিপ্রেমী সুনীল শেট্টির এই বাংলোর অন্দরমহলের ছবি দেখার পর নেটিজেনরা বলছেন, এমন সুন্দর বাড়ি ছেড়ে কোনো বিলাসবহুল হোটেলেও হয়তো কেউ যেতে চাইবেন না।




