‘আমি প্রগতি আমি কন্যাশ্রী’ ২০১৩ সালে এই স্লোগান নিয়ে পথচলা শুরু হয়েছিল কন্যাশ্রী প্রকল্পের। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির স্বপ্নের প্রকল্প ৮ বছর অতিক্রম করল। ২০১৩ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সাধের প্রকল্পের সূচনা হওয়ার পর ১৪ অগাস্টকে তিনি কন্যাশ্রী দিবস ঘোষণা করেন। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই মেয়েদের শিক্ষিত ও স্বনির্ভর করে তোলা এবং বাল্যবিবাহ বন্ধ করা। আজও বাংলার শহর থেকে জেলার মেয়েরা সুবিধা পাচ্ছে এই প্রকল্পের। তার প্রমানস্বরূপ শনিবার ফেসবুক থেকে টুইটার কন্যাশ্রীর সাফল্য তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এইবছর উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম মুর্শিদাবাদের রুমানা সুলতানাকে কন্যাশ্রীর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডার করা হয়েছে।
কী এই কন্যাশ্রী প্রকল্প?
একটা সময় ইচ্ছা থাকলেও অভাবের তারণায় বাড়ির লেখাপড়া করা হতনা। ১৮ বছরের আগেই বিয়ে দিয়ে দেওয়া হত। আর এই সব বন্ধ করে মেয়েদের লেখাপড়া করার সুযোগ করে দিতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি চালু করেন কন্যাশ্রী প্রকল্প।
আরও পড়ুন: উত্তরবঙ্গ থেকে পঞ্চায়েত প্রচার শুরু করবেন তৃণমূল সুপ্রিমো; প্রথম সভা কোচবিহারে
এই প্রকল্পের মাধ্যমে পড়াশোনার জন্য বছরে ১০০০ টাকা বৃত্তি এবং এককালীন ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয় ছাত্রীদের। এখন বিশ্ববিদ্যালয় স্তরেও পৌঁছে গেছে কন্যাশ্রী। বিজ্ঞান নিয়ে যারা পড়েন তাঁদের মাসে ২,৫০০ টাকা আর কলা বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের মাসে ২,০০০ টাকা করে দেওয়া হয় এই প্রকল্পে। আন্তর্জাতিক স্তরেও সুনাম অর্জন করেছে কন্যাশ্রী প্রকল্প। ইউনাইটেড নেশনস থেকে সর্বোচ্চ জনসেবা পুরস্কারে সম্মানিত হয় কন্যাশ্রী।
২০১৫ সালে কন্যাশ্রী প্রকল্প স্কচ আওয়ার্ড পেয়েছে। এছাড়াও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছেও সম্মানিত হয় এই প্রকল্প।
কন্যাশ্রীর সুবিধা পেতে নাম নথিভুক্ত করেছে ২ কোটি ৪৩ লক্ষ ৭৭ হাজার ৪২৬ জন পড়ুয়া। এদের মধ্যে ২ কোটি ৩৬ লক্ষ ৩৩ হাজার ৯৩৪ জনকে প্রকল্পের অনুমোদন পেয়েছে।
কারা পায় এই প্রকল্পের সুবিধা?
আরও পড়ুন: দু’দিন পরেই শুরু মাধ্যমিক; শিয়ালদহ ডিভিশনে ট্রেন নিয়ে বিশেষ ঘোষণ রেলের
১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সের মধ্যে ছাত্রছাত্রীরা এই প্রকল্পের সুবিধা পায়।তবে তাঁদের পারিবারিক আয় হতে হবে বছরে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা বা তার কম।
কীভাবে পাওয়া যাবে এই প্রকল্পের সুবিধা?
মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যিমক স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মহকুমা শাসকের অফিস, ব্লক অফিসে কন্যাশ্রীর ফর্ম পাওয়া যায়। বিধাননগরের সমাজকল্যাণ দফতরের কমিশনারেট থেকেও ফর্ম পাওয়া যায়। এছাড়াও কলকাতা পুরসভা, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, আশা কর্মীদের কাছেও ফর্ম পাওয়া যায়।




