বিধ্বংসী আমপানের তাণ্ডবে লন্ডভন্ড বাংলা। তছনছ দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, কলকাতা ও হাওড়া। এখনও পর্যন্ত ১০ থেকে ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে বলে বুধবার গভীর রাতে জানান মুখ্যমন্ত্রী। ক্ষয়ক্ষতির পুরো হিসেব এখনও করা যায়নি। প্রায় আড়াইশো বছর আগে এমন দুর্যোগের মুখে পড়েছিল বাংলা, জানিয়েছেন মমতা ব্যানার্জি।
বুধবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ সাগরদ্বীপ এলাকায় ল্যান্ডফল হয় অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আমপানের। কলকাতায় প্রবল ঝড় শুরু হয় দুপুর সাড়ে ৩ টে নাগাদ। তারপর থেকে ক্রমেই বাড়তে থাকে ঝড়ের দাপট। জানা যায়, সাগরদ্বীপে ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার। কলকাতার দমদমে গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৩৩ কিলোমিটার। সঙ্গে দোসর হিসেবে ছিল বৃষ্টি।
ঝড়ের ঝাপটায় ধ্বংসের মুখে সুন্দরবন তথা দুই ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকা। ভেঙেছে নদী বাঁধ, গ্রামে ঢুকছে নোনা জল। শুয়ে পড়েছে হাজার হাজার কাঁচা বাড়ি, নষ্ট বিঘার পর বিঘা খেতের ফসল। জেলার পর জেলা জুড়ে বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। নেট মোবাইল সংযোগ, পাওয়া যাচ্ছে না ইন্টারনেটও। ফলে দুই ২৪ পরগনার প্রকৃত অবস্থা এখনও অস্পষ্ট। জানা গিয়েছে, গাছ চাপা পড়ে, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে অনেকের।
আরও পড়ুন: ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’-তে জমা অভিযোগের আরও দ্রুত নিষ্পত্তি! নবান্নের নির্দেশে তৈরি হচ্ছে পৃথক দল



আরও পড়ুন: পুজোর একমাস আগেই শহরে উৎসবের মেজাজ, দেখে নিন ক্যামেরাবন্দি ছবি
প্রশাসন সূত্রে খবর, আগে থেকেই বহু মানুষকে ত্রাণ শিবিরে সরিয়ে নেওয়ায়, মৃত্যুর সংখ্যা হয়ত কমানো গিয়েছে, কিন্তু বাকি ক্ষতি হিসেবের বাইরে চলে গিয়েছে।
শহর কলকাতায় কিছু জায়গায় এখনও বন্ধ বিদ্যুৎ, নেই ইন্টারনেট কানেকশন। শহরের বহু রাস্তাই গাছ পড়ে অবরুদ্ধ। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজপথে উপড়ে গিয়েছে ট্রাফিক পোস্ট।
সবমিলিয়ে করোনা সঙ্কট মোকাবিলার মধ্যেই চরম প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে বাংলা।