করোনা পরিস্থিতিতে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি সংস্থা ভারতের অর্থনৈতিক মন্দার পূর্বাভাস দিয়েছে। মঙ্গলবার সেই আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিয়ে রেটিং সংস্থা ক্রিসিলের বার্তা, ভারতের ইতিহাসে সব থেকে ভয়ঙ্কর মন্দা সম্ভবত এ বছরেই আসতে চলেছে।
ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন সার্ভিস ইন্ডিয়া লিমিটেডের (ক্রিসিল) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ আর্থিক বছরে ভারতের অর্থনীতি ৫ শতাংশে হারে সঙ্কুচিত হবে। তার কারণ হিসেবে করোনা সংক্রমণ রুখতে যে দীর্ঘ লকডাউন জারি হয়েছে, তাকেই দায়ী করেছে ক্রিসিল।
সংশ্লিষ্ট রেটিং সংস্থা প্রথমে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধি ৩.৫ শতাংশ হারে দেখালেও পরে তা কমিয়ে ১.৮ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দেয়। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের আগে ভারতের জিডিপি যে অবস্থায় ছিল সেখানে ফিরতে অন্তত তিনটি আর্থিক বছর সময় লাগবে বলে জানাচ্ছে ক্রিসিল। বলা হয়েছে, রিয়েল টার্মে দেশের জিডিপি-র ১০ শতাংশ পুরোপুরি হারানোর আশঙ্কা তীব্র। ক্রেডিট রেটিং সংস্থা আরও জানাচ্ছে, চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল-জুন) জিডিপি সরাসরি কমবে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত। আসতে চলেছে ঘোর আর্থিক মন্দা।
ক্রিসিলের সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ২০২১ অর্থবর্ষে অকৃষিযোগ্য জিডিপি ৬ শতাংশ কমে যেতে পারে। কৃষি ক্ষেত্রে জিডিপি ২.৫ শতাংশ হারে সঙ্কুচিত হতে পারে।
তথ্য বলছে, গত ৬৯ বছরে মাত্র তিনবার অর্থনৈতিক মন্দার কবলে পড়েছে ভারত। তা হল, ১৯৫৮, ১৯৬৬ এবং ১৯৮০ সালে। এই তিন ক্ষেত্রেই মন্দার অন্যতম কারণ ছিল বর্ষার সময় কৃষিক্ষেত্রে বড় ক্ষতি। কিন্তু ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২১ সালের মার্চে যে মন্দা আসছে তা অন্যরকম।

আরও পড়ুন: অনড় আন্দোলনকারীরা; আইন প্রত্যাহারের পরেও বৈঠকে সংযুক্ত কিসান মোর্চা
গত ২৫ মার্চ দেশে প্রথম দফা লকডাউন থেকে ৩১ মে পর্যন্ত চতুর্থ লকডাউনে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। তাই প্রথম ত্রৈমাসিক তো চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবে, সেই সঙ্গে পরের কয়েকটি ত্রৈমাসিকে শিক্ষা, ভ্রমণ, পর্যটন ইত্যাদি সেক্টরগুলির উপর নেতিবাচক প্রভাব জারি থাকবে বলে জানাচ্ছে ক্রিসিল। বলা হচ্ছে, কর্মসংস্থান ও আয় কমবে মানুষের। সেই সঙ্গে যে রাজ্যগুলিতে করোনার প্রভাব বেশি সেখানে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তলানিতে ঠেকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন সার্ভিস ইন্ডিয়া লিমিটেড।